২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে সোমবার মনোনয়ন দাখিল করতে চলেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর ঠিক আগের দিন, রবিবার বিকেলে সল্টলেকের দফতরে দলীয় প্রতীক গ্রহণ করলেন তিনি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী তাঁর হাতে প্রতীক তুলে দেন।
প্রতীক গ্রহণের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। অভিযোগ করেন, “বিরোধী দলনেতা হিসেবে আমার সাংবিধানিক অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে। সভা করার অনুমতি পেতে ১০৪ বার হাইকোর্টে যেতে হয়েছে।” বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্লোগানে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল ২০২১-এর ফলাফল মেনে নিতে পারেনি।
ভবানীপুরেও সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়াই
দলীয় মহলের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এদিন সেই কথা জানিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “নন্দীগ্রামে মানুষের সঙ্গে তাঁর আবেগের বন্ধন অটুট। তাই ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে।”
২০২১ সালের নন্দীগ্রাম ভোটে শুভেন্দু কয়েক হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে ফল ঘোষণা ঘিরে লোডশেডিং ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তৃণমূল আদালতের দ্বারস্থ হয়। বিজেপি পাল্টা দাবি করে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় মেনে নিতে পারেনি তৃণমূল।” বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, জয়ের শংসাপত্র নিতে যাওয়ার সময় শুভেন্দুর গাড়িতে হামলা হয়েছিল।
‘৩২টি ভুয়ো মামলা—সব তৈরি পরাজয়ের পর’: শুভেন্দুর অভিযোগ
সোমবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে শুভেন্দু জানান, তাঁর নামে ৩২টি এফআইআর রয়েছে, যেগুলো ২০২১ সালের ২ মে–এর পর দায়ের করা। তাঁর দাবি, “সবক’টি মামলা মিথ্যা। রাজনৈতিক প্রতিশোধ থেকেই করা হয়েছে।”
মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুভেন্দুর পাশে থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
ভোটের আগে দুই কেন্দ্রেই বিজেপির লড়াইয়ের বার্তা
ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দুকে দাঁড় করিয়ে কৌশলগত বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর ‘অপরিবর্তিত উপস্থিতি’কে সম্মান জানাতেই তাঁর দ্বৈত প্রার্থিতা—এমনটাই দাবি রাজ্য বিজেপির।







