রাজনীতি

কেরলে সিপিএম–কংগ্রেসের ‘সেটিং’! বিজেপি ক্ষমতায় এলে বন্ধ হবে লুটতরাজ, দাবি প্রধানমন্ত্রীর

কেরলে চার দশক ধরে সিপিএম ও কংগ্রেস মিলে রাজ্যকে লুট করেছে— রবিবার পালাক্কাডে নির্বাচনী জনসভা থেকে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দাবি করলেন, দুই দল যতই প্রকাশ্যে কুস্তি খেলুক, দিল্লিতে গিয়ে তারা ‘দোস্তি’ করে। তাঁর কথায়, “কেরলে রেষারেষি, দিল্লিতে বন্ধুত্ব— এটাই কংগ্রেস ও বামেদের আসল চরিত্র।”

কেরল বিধানসভার আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীক্ষাগুলি মূল লড়াই সিপিএম ও কংগ্রেসের মধ্যে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য, বিজেপি এবার কেরলে সরকার গড়বে, এবং “দুর্নীতি–লুটতরাজের রাজত্ব” ভেঙে দেবে।

মোদীর সরাসরি অভিযোগ
মোদীর দাবি,

সিপিএম ক্ষমতায় থেকেও রাজ্যে উন্নয়ন আটকে দিয়েছে।

কংগ্রেসও একইভাবে দুর্নীতির জাল বিস্তার করেছে।

দুই দলের মধ্যে “গভীর বোঝাপড়া” রয়েছে।

মোদীর কথায়, “কংগ্রেস ও বামপন্থীরা একে অপরকে মিথ্যা অপবাদ দেয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করে সহযোগিতার রাজনীতি চালায়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই মন্তব্যের লক্ষ্য শুধুই সিপিএম–কংগ্রেস নয়— দেশের স্তরে ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে থাকা সমন্বয়কেও আঘাত করা। ওই জোটে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

রাজনৈতিক পাল্টা সুর
কেরলে কংগ্রেস বরাবরই অভিযোগ করেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন “কেরলের মোদী”— ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্বৈরাচারী নেতৃত্বদানের ধাঁচের জন্য।
কিন্তু রবিবার মোদী সেই কটাক্ষ উল্টো ঘুরিয়ে সিপিএম–কংগ্রেস উভয়ের উপরই আক্রমণ শানান।

ভিড় জমল জনসভায়
পালাক্কাডের মাঠে যথেষ্ট ভিড় চোখে পড়ে। সেখানেই মোদী বলেন,
“কেরল নতুন পথ চায়। বিজেপিকে সুযোগ দিন।”

বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
কেরলে ‘সেটিং’ বিতর্ক নতুন নয়। পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক একই চিত্রের অভিযোগ শোনা যায়—

সিপিএমের অভিযোগ তৃণমূল–বিজেপির যোগসাজশ।

বিজেপির অভিযোগ কংগ্রেস–সিপিএম–তৃণমূলের বোঝাপড়া।

এই যুক্তি–পাল্টা যুক্তির আবহে, কেরলেও এখন ‘সেটিং’ তত্ত্ব ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.