দেশ

জোড়া চাপে নয়াদিল্লি, চাবাহার ঘিরে কৌশলগত দুশ্চিন্তা

ইরানে চলা প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জেরে একদিকে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক-হুঁশিয়ারি—দু’দিকের চাপে পড়ে কূটনৈতিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ‘কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ’ চাবাহার বন্দর হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা ভারতের কাছে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও ভারত যে ওই পথেই হাঁটছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলিকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ১২ ডিসেম্বর নিজের সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যে সমস্ত দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বজায় রাখবে, তাদের উপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানো হবে। এই ঘোষণার পরেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ইরানে অবস্থিত, ভারতের ব্যবহৃত চাবাহার বন্দর।

তবে এই ইস্যুতে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। সাংবাদিকদের তিনি জানান, “এই বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র স্বল্পমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দিলে চাবাহার বন্দরের ব্যবহার নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক স্তরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি।

এদিকে, ইকনমিক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে আসার বিষয়টি নাকি বিবেচনাধীন রয়েছে ভারতের নীতিনির্ধারকদের একাংশের কাছে। তবে ওই প্রতিবেদনে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক-হুঁশিয়ারি নয়, একাধিক কৌশলগত ও আর্থিক কারণ এই আলোচনার নেপথ্যে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই চাবাহার বন্দরের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ভারতের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ছ’মাসের জন্য ছাড় দেওয়া হয়, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী এপ্রিল মাসে। এবার সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ফের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও এবার সরাসরি চাবাহার নয়, ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের উপরই মূলত কড়া অবস্থান নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, কেবল শুল্কের চাপের কারণে চাবাহার প্রকল্প থেকে সরে আসা ভারতের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। কারণ এই বন্দর ভারতের জন্য শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সংযোগের একমাত্র কার্যকর পথ। পাকিস্তানকে এড়িয়ে ওই অঞ্চলে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে চাবাহারের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।

ফলে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে চাবাহার ঘিরে আলোচনা ও পর্যালোচনার গুরুত্ব যে বেড়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও কীভাবে কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা যায়, সেই কঠিন সমীকরণ মেলাতেই এখন ব্যস্ত ভারতীয় কূটনীতি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.