বাংলার ফুটবল তথা ক্রীড়া জগতের এক পরিচিত মুখ সৈয়দ রহিম নবি। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল থেকে শুরু করে দেশের জার্সি গায়ে বছরের পর বছর মাঠ কাঁপানো এই তারকাকে এবার এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হল। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে এসআইআর নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ক্রীড়া মহলে। শুধু নবি নন, এই তালিকায় নাম রয়েছে মহম্মদ শামি, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, মেহতাব হোসেন এবং অলোক মুখোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তিদেরও।
মূলত ভোটার হিসেবে নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করার জন্যই এই শুনানি বা তলব। প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা বিদেশের মাটিতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যাঁদের নাম আর পরিচয় গোটা দেশ জানে, তাঁদেরই কি না এখন নিজের দেশে ভোটার হওয়ার প্রমাণ দিতে হচ্ছে! এই বিষয়টিকেই ‘অপমানজনক’ বলে মনে করছেন ক্রীড়াবিদদের একটা বড় অংশ। শনিবার এই নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আগে থেকেই কম্পটন দত্ত বা মেহতাব হোসেনের মতো প্রথিতযশা খেলোয়াড়দের ডাকা হয়েছিল, এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন রহিম নবিও।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন ক্রীড়া জগতের মানুষেরা। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে তাঁরা পথে নেমে এই ‘হেনস্থার’ বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, যাঁরা দেশের জন্য রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছেন, তাঁদের এভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো স্রেফ অমর্যাদা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগছে দেশের হয়ে খেলা তারকাদেরও কি এখন নিজেদের নাগরিকত্ব বা ভোটার হওয়ার পরিচয় নতুন করে দিতে হবে?
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে শুরু থেকেই অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সরাসরি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেছেন যে, পরিকল্পনামাফিক বাংলার কৃতিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সেভাবে মুখ না খুললেও তৃণমূল সুপ্রিমো এই অপমান মেনে নেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, খেলোয়াড়দের এই তলব করা নিয়ে এখন সরগরম রাজ্যের রাজনীতি ও ময়দান।







