কলকাতা

অমাবস্যায় শ্যামসুন্দরী মন্দিরে ধুন্ধুমার, ভক্ত–পুলিশ সংঘর্ষে উত্তাল আমহার্স্ট স্ট্রিট

সন্ধ্যা ৬টায় হঠাৎ মন্দির বন্ধের অভিযোগ, পুজো না পেয়ে ক্ষুব্ধ ভক্তরা—ইটবৃষ্টি, পাল্টা লাঠিচার্জ

অমাবস্যার বিশেষ তিথিতে আমহার্স্ট স্ট্রিটের শ্যামসুন্দরী মন্দিরে পুজো দিতে এসে চরম ভোগান্তির মুখে পড়লেন হাজার হাজার পুণ্যার্থী। রবিবার সন্ধ্যায় আচমকা মন্দিরের মূল দ্বার বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভক্তদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।

দূরদূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের ভিড়ে দুপুর থেকেই ঠাসা ছিল মন্দির সংলগ্ন সরু রাস্তা। অভিযোগ, বহু পুণ্যার্থী তখনও পুজোই দিতে পারেননি। অথচ কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ এবং জানিয়ে দেওয়া হয়, আর পুজো দেওয়া যাবে না।

এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পুণ্যার্থীরা। মন্দিরের বাইরে বিক্ষোভ শুরু হয়, মন্দির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বচসা বাঁধে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।

পুলিশ ভিড় সরাতে ব্যারিকেড দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তখনই পুলিশের দিকে ইট ছোড়া শুরু হয়। পাল্টা পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। মুহূর্তে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে পুজোর জন্য আনা মিষ্টি, ধূপকাঠি, কাপড় ও চটি-জুতো।

এক পুণ্যার্থীর অভিযোগ, “আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ এক পুলিশকর্মী এসে আমার পা চেপে ধরেন। তারপর আমাদের তাড়া করা হয়।” আরেক ভক্ত বলেন, “হঠাৎ বলল সন্ধ্যা ৬টায় মন্দির বন্ধ। আগে কিছুই জানানো হয়নি। এত মানুষ পুজোই দিতে পারল না, কারণও জানানো হয়নি।”

ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মন্দির কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.