0কলকাতা হাইকোর্ট বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র—দু’পক্ষকেই স্পষ্ট বার্তা দিল। জীবন ও জীবিকা রক্ষার স্বার্থে বেলডাঙায় ইতিমধ্যেই থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) যেন যথাযথভাবে মোতায়েন করা হয়—এমনই পর্যবেক্ষণ প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চের। পাশাপাশি আদালতের মন্তব্য, বাহিনী কম পড়লে কেন্দ্রের কাছে আরও বাহিনী চেয়ে অনুমোদন নিতে হবে রাজ্যকে।
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে দু’টি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় প্রতিবাদের নামে পরিকল্পিতভাবে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। একাধিক সম্পত্তি ভাঙচুর, রেলের সম্পত্তি নষ্ট, জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং সাংবাদিককে মারধরের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। আইনজীবীর দাবি, গোটা ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত—এ কথা পুলিশ সুপারও স্বীকার করেছেন।
মামলাকারী জানান, গত বছর জুলাই মাসে মুর্শিদাবাদের একই ধরনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে জেলায় বাহিনী থাকলেও, অভিযোগ অনুযায়ী সামসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে থাকা বাহিনী বেলডাঙায় যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর আবেদন, বেলডাঙায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা) জারি করা হোক। পাশাপাশি দেশের শান্তি বিঘ্নিত করতে বিদেশ থেকে অর্থ আসছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এনআইএ তদন্তের দাবিও তোলা হয়।
রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগের মুর্শিদাবাদ-সংক্রান্ত ঘটনায় ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ঘরছাড়া মানুষদের বাড়ি ফেরানো হয়েছে। বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে রাজ্য জানায়, প্রশাসনিকভাবে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
ঘটনাক্রম ব্যাখ্যা করে রাজ্যের আর এক আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুক্রবার ঝাড়খণ্ডে আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ এক সাংবাদিক আক্রান্ত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। রাজ্যের দাবি, এখনও পর্যন্ত ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, চারটি মামলা রুজু হয়েছে। এলাকায় ৫ কোম্পানি CAPF ক্যাম্প রয়েছে এবং তারা টহল দিচ্ছে। বর্তমানে বেলডাঙার পরিস্থিতি স্বাভাবিক, বাজারও খুলেছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
এ সব শোনার পর প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “ইতিমধ্যেই CAPF সেখানে রয়েছে। জীবন ও জীবিকা রক্ষায় সেই বাহিনী ব্যবহার করা হোক। যদি বাহিনী কম পড়ে, তবে কেন্দ্রের কাছে আরও বাহিনী চেয়ে অনুমোদন নিতে হবে।” বিচারপতি পার্থসারথি সেন বলেন, মামলাকারীর অভিযোগ—ঘটনার সময় রাজ্য যথাযথভাবে বাহিনী ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজ্যের আইনজীবীকে তিনি প্রশ্ন করেন, এই অভিযোগের জবাব কী?
এর উত্তরে রাজ্যের তরফে বলা হয়, এ কোনও নতুন অভিযোগ নয়। মামলাকারীর উদ্দেশ্য, সর্বত্র CAPF বা BSF মোতায়েন করা। তবে রাজ্য ঘটনার দিন এবং তার পরেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।
বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ে এই পর্যবেক্ষণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।







