কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল বিদ্যাসাগর সেতু আগামী রবিবার ফের পুরো দিন বন্ধ থাকছে। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ভোর ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সেতু দিয়ে কোনও ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে শহরবাসীকে আগেভাগেই বিকল্প রুট বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
বিকল্প পথে যান চলাচলের নির্দেশ
ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জিরাট আইল্যান্ড থেকে এজেসি বোস রোড হয়ে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী যানবাহন টার্ফ ভিউ ভায়া গ্রেড রোড ধরে হেস্টিংস ক্রসিং হয়ে সেন্ট জর্জেস গেট রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড ব্যবহার করে হাওড়া ব্রিজে যেতে পারবে। প্রয়োজনে হেস্টিংস ক্রসিং থেকে ডানদিকে ঘুরে কেপি রোড ব্যবহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
জওহরলাল নেহরু আইল্যান্ড থেকে কেপি রোড ধরে আসা গাড়িগুলি ১১ ফারলং গেট হয়ে হেস্টিংস ক্রসিং পেরিয়ে সেন্ট জর্জেস গেট রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজ ব্যবহার করতে পারবে।
পূর্বমুখী যান চলাচলের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিকল্প পথ জানানো হয়েছে। খিদিরপুর থেকে সিজিআর রোড ধরে আসা যানবাহন হেস্টিংস ক্রসিং থেকে বাঁদিকে ঘুরে সেন্ট জর্জেস গেট রোড ও স্ট্র্যান্ড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজ ধরবে। কেপি রোড থেকে বিদ্যাসাগর সেতুমুখী যান ওয়াই পয়েন্ট পেরিয়ে ঘোড়া পাস হয়ে রেড রোড ধরে হাওড়া ব্রিজে পৌঁছবে।
কেন বন্ধ করা হচ্ছে সেতু?
দ্বিতীয় হুগলি সেতু নামে পরিচিত বিদ্যাসাগর সেতুর বয়স ইতিমধ্যেই ২৭ বছর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতু নির্মাণের সময় ব্যবহৃত স্টে কেবল, হোল্ডিং ডাউন কেবল, ডেক স্ল্যাব ও এক্সপ্যানশন জয়েন্টের গড় আয়ু প্রায় ২৫ বছর। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড়সড় সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই কাজের জন্য সেতুর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এইচআরবিসি (HRBC) বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলাদা দল গঠন করেছে। বিদ্যাসাগর সেতুতে মোট ১৫০টি স্টে কেবল রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে এই কেবলগুলির পরিবর্তনের কাজ চলছে।
বাড়ছে যাত্রী ক্ষোভ
প্রায় প্রতি রবিবার সেতু বন্ধ থাকায় নিত্যযাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেরই প্রশ্ন, কেন রাতের বেলায় কাজ করে দিনের বেলায় সেতু খোলা রাখা হচ্ছে না। যদিও প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণেই নির্দিষ্ট সময় ধরে সম্পূর্ণ সেতু বন্ধ রেখে কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই।
নবান্ন-সহ রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনের সঙ্গে যুক্ত এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে রবিবারের এই বন্ধ শহরের যান চলাচলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন ট্র্যাফিক বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশের পরামর্শ
সব মিলিয়ে, আগামী রবিবার বিদ্যাসাগর সেতু বন্ধ থাকায় শহরবাসীকে আগেভাগেই বিকল্প রুট দেখে বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ। তা না হলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছনো কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।







