নিজস্ব সংবাদদাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই শেষ পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট। ফলে শুরু থেকেই এই বাজেটকে কার্যত ‘ভোট-বাজেট’ বলেই দেখছিল রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবার বাজেট পেশ হতেই সেই জল্পনায় সিলমোহর পড়ল। রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ভাতার অঙ্ক উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়ানোর ঘোষণা করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা এতদিন যে মাসিক ১,২০০ টাকা করে ভাতা পেতেন, তা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ১,৭০০ টাকা। পাশাপাশি সাধারণ বিভাগের মহিলাদের ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ১,৫০০ টাকা। অর্থাৎ, ভোটের মুখে লক্ষ লক্ষ মহিলার হাতে মাসে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা তুলে দিল রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে আরও সংহত করতে এটাই মমতা সরকারের ‘মাস্টারস্ট্রোক’।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই প্রকল্পটি চালু হয়। গত পাঁচ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের হাতে পৌঁছেছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৭ হাজার কোটি টাকা, যা থেকেই স্পষ্ট এই প্রকল্পকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে নবান্ন।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত বছর রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তার আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে ভাতা বাড়ানো হয়। সে সময় ফেব্রুয়ারির বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছিল, ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করা হবে। এপ্রিল মাস থেকেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় এবং ভোট চলাকালীনই বাড়তি টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা ভোটে গ্রাম বাংলায় তৃণমূলের ভাল ফলের পিছনে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বড় ভূমিকা ছিল।
বর্তমানে বাংলায় ভোটারের সংখ্যা সাড়ে সাত কোটি। তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা। অর্থাৎ, রাজ্যের মোট ভোটারের এক বিরাট অংশ সরাসরি এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। সেই অঙ্ক মাথায় রেখেই ভোটের মুখে ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে সামনে রেখেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।







