নিজস্ব সংবাদদাতা: চার পেসারের ছকে কতটা লাভবান হল বাংলা, তার স্পষ্ট উত্তর পেতে আরও অন্তত একদিন অপেক্ষা করতে হবে। রনজি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম দিনে বাংলার পেস আক্রমণ একাধিকবার ঝলক দেখালেও পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারল না দল।
কল্যাণীতে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ। ধারণা ছিল, পিচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীর হয়ে যাবে এবং ব্যাটারদের পক্ষে সহায়ক হবে। সেই হিসেবেই চার পেসার ও একমাত্র স্পিনার শাহবাজ আহমেদকে নিয়ে নামা বাংলার জন্য টস জয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুরুটা মোটেই প্রত্যাশামতো হয়নি। প্রথম ঘণ্টায় কোনও উইকেট না হারিয়ে সাবলীলভাবে খেলতে থাকে অন্ধ্রপ্রদেশ। অবশেষে প্রথম সাফল্য এনে দেন আকাশ দীপ। তাঁর বলেই ফিরে যান অভিষেক রেড্ডি। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে বাংলা। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলতে থাকেন পেসাররা।
মুকেশ কুমার ফেরান সাইক রশিদকে, আর মহম্মদ শামির বলে আউট হন চেঙ্গালপেট জ্ঞানেশ্বর। কিন্তু এক প্রান্তে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রিকি ভুঁই। তাঁর ব্যাটেই অন্ধ্রপ্রদেশ ২৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায়। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার মুখে বাংলাকে বড় স্বস্তি এনে দেন আকাশ দীপ। তাঁর বলেই ৮৩ রানে আউট হন রিকি ভুঁই। শাহবাজ আহমেদের উচ্ছ্বসিত সেলিব্রেশনেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই উইকেটের গুরুত্ব।
এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মুকেশ কুমারের বলে ফিরে যান নীতীশ কুমার রেড্ডি (৩৩)। ভারতীয় টেস্ট দলে তাঁকে নিয়মিত করার জন্য চেষ্টা চললেও, রনজিতে তাঁর পারফরম্যান্স সেই দাবিকে জোরালো করতে পারছে না।
প্রথম দিনের শেষে অন্ধ্রপ্রদেশের রান ৬ উইকেট হারিয়ে ২৬৪। মুকেশ কুমার নেন ৩ উইকেট, আকাশ দীপের ঝুলিতে ২টি, আর শামি পান ১টি উইকেট।
দ্বিতীয় দিনে বাংলার সামনে মূল চ্যালেঞ্জ দ্রুত অন্ধ্রপ্রদেশকে অলআউট করা। অতীতে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের কাছে বারবার সমস্যায় পড়েছে বাংলা। সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে ম্যাচ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বোলারদের কাজ শেষ হলে ব্যাট হাতে দায়িত্ব নিতে হবে অভিমন্যু ঈশ্বরণ ও অনুষ্টুপ মজুমদারদের।
নাহলে গ্রুপ পর্বে প্রথম হয়ে শেষ আটে পৌঁছেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হতে পারে বাংলাকে।







