পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তথাকথিত ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) সংক্রান্ত নির্দেশিকার বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদন সোমবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
Surya Kant-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ, যার সদস্য ছিলেন Joymalya Bagchi এবং Vipul Pancholi, আবেদনকারী জিমফারহাদ নওয়াজের আর্জি খারিজ করে স্পষ্ট জানায়— ৩২ অনুচ্ছেদের আওতায় এই ধরনের বিষয় বিচারযোগ্য নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, “আপনি কি চান যে আমরা ৩২ অনুচ্ছেদের একটি আবেদনের অধীনে আপনার বাবা, আপনার মা এবং আপনার ভাই কে, তা স্থির করি? নির্বাচন কমিশনে যান।”
আবেদনকারী দাবি করেছিলেন, এসআইআর-এ ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ চিহ্নিতকরণ এবং সেই ভিত্তিতে ভোটারদের তলব করার প্রক্রিয়া সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) এবং ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই প্রক্রিয়া বৈষম্যমূলক এবং নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করছে।
তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে— সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে, যা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সুযোগ দেয়, এই ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চ্যালেঞ্জ করা আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না। আদালত স্পষ্ট জানায়, ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত অভিযোগের যথাযথ ফোরাম নির্বাচন কমিশনই।
উল্লেখযোগ্য, গত মাসে সুপ্রিম কোর্টই নির্দেশ দিয়েছিল যে এসআইআর-পর্বে চিহ্নিত ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’-র তালিকা প্রকাশ করতে হবে। রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তালিকা টাঙানো, প্রতিটি ব্লকে পৃথক কাউন্টার খোলা এবং সাধারণ মানুষের নথি জমা ও আপত্তি জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয় আদালত।
কমিশন সূত্রে প্রথমে জানানো হয়েছিল, প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটারকে ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’র ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৯৪ লক্ষে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা।
সোমবারের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিল— ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা বা তথ্যগত অসঙ্গতির প্রশ্নে সাংবিধানিক রিটের পথ নয়, বরং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সমাধান খুঁজতে হবে।







