প্রচারের অভিযোগ তৃণমূলের
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঢুকে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (AI) নতুন বিতর্ক। উন্নত প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিজেপি ‘ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর’ প্রচার চালাচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের কাছে চার পাতার অভিযোগপত্র জমা দিল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস।
তৃণমূলের দাবি, এআই-নির্মিত ভিডিও, অডিও ও বিভিন্ন ‘সিন্থেটিক কনটেন্ট’ ব্যবহার করে ভোটারদের ভুল পথে চালিত করা হচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রযুক্তির সূক্ষ্ম কারসাজিতে এই সমস্ত কনটেন্ট এতটাই নিখুঁত যে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল-নকল আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে এটি সরাসরি মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন লঙ্ঘন করছে বলেই অভিযোগ জোড়ফুল শিবিরের।
তৃণমূলের আরও অভিযোগ, ডিপফেক প্রযুক্তির সাহায্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে এবং ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্টের বিধানও উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে ব্যক্তিগত তথ্যের সম্ভাব্য অপব্যবহার ও ভোটারদের পছন্দ-অপছন্দকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে, যা গণতান্ত্রিক পরিসরের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক—এমনই মত তৃণমূল নেতৃত্বের।
এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস—
বিজেপির এআই-চালিত প্রচারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত
MCC ও আইটি আইনের আওতায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন তৎক্ষণাৎ বন্ধ
পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশেষ ডিজিটাল নজরদারি জোরদার করা
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে ভারতের নির্বাচনী লড়াই ক্রমেই ডিজিটাল যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে। যদিও কিছু রাজ্যে এআই প্রচার নিয়ে আগে বিতর্ক দেখা গিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার কোনও রাজনৈতিক দল কমিশনের কাছে এত বিস্তারিত অভিযোগপত্র জমা দিল—যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে—এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কি নতুন কোনও ডিজিটাল গাইডলাইন বা কঠোর পদক্ষেপ ঘোষণা করে, নাকি পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকে—তা দেখার অপেক্ষা।







