আবার কোচ বদল। আবার দিশেহারা টটেনহ্যাম হটস্পার। মাত্র ৪৪ দিনের মাথায় দায়িত্ব ছাড়লেন ইগর টুডর। ক্লাব জানাল—‘পারস্পরিক সম্মতি’। কিন্তু মাঠের পরিসংখ্যান ঘুরে দেখলে স্পষ্ট, সাত ম্যাচে এক পয়েন্ট—এই ব্যর্থতাই তাঁর বিদায়ের চূড়ান্ত কারণ।
ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থমাস ফ্র্যাঙ্কের জায়গায় এসে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর কঠিন কাজ হাতে নিয়েছিলেন টুডর। কিন্তু একের পর এক হার, রক্ষণে ভাঙন, আক্রমণে নিষ্প্রাণ ফুটবল—সব মিলিয়ে স্পার্স নেমে আসে পয়েন্ট তালিকার তলায়। শেষ ম্যাচে নটিংহ্যাম ফরেস্টের কাছে ০-৩ হার কার্যত তাঁর ভাগ্য সিল করে দেয়। পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ পরাজয়ের পর দল এখন ১৭ নম্বরে—অবনমনের সরাসরি আশঙ্কায়।
তবে টুডরের আমলেও উজ্জ্বল মুহূর্ত ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে জয় এবং অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে আটকে দেওয়া নজর কাড়ে। কিন্তু প্রথম লেগে ধস নামা রক্ষণ, ২২ মিনিটে চার গোল হজম এবং অনভিজ্ঞ গোলকিপার আন্তোনিন কিনস্কিকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে।
এ মরসুমে এ নিয়ে টটেনহ্যামের তৃতীয় কোচ পরিবর্তন। অঁজ পস্টেকোগলু, থমাস ফ্র্যাঙ্কের পর এবার টুডরও প্রমাণ করলেন—সমস্যা শুধু সাইডলাইনে নয়, দলের অন্দরের অস্থিরতাই গভীর। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব ও ড্রেসিংরুম অস্থিরতাই বিশেষজ্ঞদের চোখে মূল সংকট।
এখন প্রশ্ন—এরপর কে? ক্লাবের অন্দরে রবার্তো দে জার্বির নাম ঘুরছে জোরালোভাবে, যদিও তিনি নাকি এই মৌসুমে দায়িত্ব নিতে রাজি নন। আপাতত অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ব্রুনো সালতোর।
কিন্তু নতুন কোচ যেই হোন না কেন, অবনমনের চাপ, দিশাহীন কৌশল আর ধারাবাহিকতার অভাব—এই তিন চ্যালেঞ্জ কাটানো ছাড়া টটেনহ্যামের সামনে পথ কঠিনই রয়ে গেল।







