২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব খারিজ হয়ে যাওয়ার পরই এই আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত।
দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও জয়রাম রমেশ-সহ বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে। তাঁদের দাবি, নির্বাচনী সূচি নির্ধারণ থেকে আচরণবিধি প্রয়োগ সব ক্ষেত্রেই পক্ষপাতিত্বের ছাপ স্পষ্ট। গত ৬ই এপ্রিল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন ১৯৩ সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবটি খারিজ করেন। তাঁদের যুক্তি, অভিযোগে পর্যাপ্ত ‘অসদাচরণের প্রমাণ’ নেই। তবে বিরোধীদের মতে, আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নযোগ্য।
বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র করে। কোচবিহারে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এক আমলার সঙ্গে সিইসি-র তীব্র বাকবিতণ্ডা এবং পরে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনে সম্ভাব্য ব্যর্থতার আশঙ্কায় বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছে। এখন নজর দেশের সর্বোচ্চ আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর দিকে। আদালত এই মামলায় হস্তক্ষেপ করলে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হতে পারে। ফলে ২০২৬-এর ভোটের আগে এই সংঘাত দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।







