মালদহ: রাজ্যজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপের মাঝেই West Bengal Assembly Election 2026-এর প্রেক্ষাপটে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল Maldah Kaliachak Incident। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল National Investigation Agency (এনআইএ)। ধৃতদের নাম শাহাদত হোসেন ও আসিফ শেখ।
এর আগে একই ঘটনায় গোলাম রব্বানি নামে এক পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। বিচারকদের ঘেরাও করে আটকে রাখার ঘটনায় সেটিই ছিল প্রথম গ্রেফতার। সেই সূত্র ধরে বৃহত্তর চক্রের সন্ধানে নেমে তদন্তে গতি বাড়ায় এনআইএ।
প্রসঙ্গত, কালিয়াচকের ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, বিডিও অফিসের ভিতরে বিচারকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল। পরে পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে। বেরোনোর সময় হামলার মুখেও পড়তে হয় বলে অভিযোগ। সরকারি গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে আসে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজন কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য, অন্যজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। মোথাবাড়িতে জমায়েত ও উত্তেজনা ছড়ানোর পিছনে একটি সুপরিকল্পিত চক্র সক্রিয় ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এদিকে, প্রশাসনিক মহলেও নড়াচড়া শুরু হয়েছে। মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক (আইন ও শৃঙ্খলা) শেখ আনসার আহমেদকে শোকজ করা হয়েছে। অভিযোগ, ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত— প্রায় পাঁচ ঘণ্টা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন স্তরে কোনও তথ্য পাঠানো হয়নি।
শোকজ নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থাকা সত্ত্বেও তিনি জেলাশাসকের দফতরে কোনও ইনপুট দেননি। যদিও ওই সময় তিনি মহকুমা শাসক (SDO) ও বিডিও-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে ছিলেন বলেই জানা গিয়েছে।
নির্বাচনের মুখে এই গ্রেফতারি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য— যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান।







