মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে ভোটের আবহে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক নাটক জমে উঠেছে। Byron Biswas-এর আচরণ ঘিরে এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু শুধু জেলা নয়, গোটা রাজ্য রাজনীতি। কখনও Adhir Ranjan Chowdhury-কে দেখে মুখ লুকোচ্ছেন, কখনও ফ্লাইং কিস ছুড়ছেন, আবার কখনও প্রকাশ্যে বলছেন—“আমি বিশ্বাসঘাতক, অধীর চৌধুরী আমার গুরু।”
আর এই নাটকীয়তার মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে West Bengal Assembly Election 2026-এর ময়দান।
‘গুরু’ অধীর, ‘শিষ্য’ বাইরন—কিন্তু ময়দানে মুখোমুখি!
রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—যদি বাইরন এখনও নিজেকে অধীরের শিষ্য বলেই মানেন, তাহলে সাগরদিঘিতে এ যেন ‘শিষ্য বনাম শিষ্য’-র লড়াই। কারণ কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তীও অধীরের ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত।
বাইরনের সাম্প্রতিক মন্তব্য—
“আমি স্বার্থপর, বিশ্বাসঘাতকতা করেছি… অধীরদা আমার গুরুদেব”—
এই স্বীকারোক্তি ঘিরেই তৈরি হয়েছে তুমুল জল্পনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে এক কৌশলী আবেগের খেলা। আবার অন্য অংশের মতে, সম্ভাব্য ফলাফল আঁচ করেই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এ নেমেছেন তৃণমূল প্রার্থী।
উপনির্বাচনের ‘মহাকাব্য’ থেকে দলবদলের বিতর্ক
২০২৩ সালে সাগরদিঘির উপনির্বাচন ছিল ব্যতিক্রমী। শাসকদলের অপ্রতিরোধ্য জয়ের ধারাকে ভেঙে দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে বাইরন বিশ্বাস ২৩ হাজার ভোটে জয় ছিনিয়ে নেন। সেই জয়ে বাম সমর্থন ছিল বড় ফ্যাক্টর।
কিন্তু জয়ের কিছুদিনের মধ্যেই পাল্টে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ—
বাইরন যোগ দেন তৃণমূলে।
আর সেখান থেকেই শুরু ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বিতর্ক, যা আজও তাঁর পিছু ছাড়েনি।
অধীরের প্রতিক্রিয়া: হাসি, কটাক্ষ আর স্মৃতি
বাইরনের এই আচরণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অধীর চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র—
প্রথমে হো হো করে হাসি, তারপর কটাক্ষ।
তিনি বলেন,
“আমাকে দেখে গাড়ি রেখে লুকিয়ে পড়েছিল… পরে বেরিয়ে এসে ফ্লাইং কিস ছুড়তে ছুড়তে চলে গেল।”
এই মন্তব্যে যেমন বিদ্রূপ আছে, তেমনই স্পষ্ট রাজনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিতও মিলছে।
মুর্শিদাবাদে অধীর ‘স্কুল’—আর ছড়িয়ে পড়া শিষ্যরা
পর্যবেক্ষকদের মতে, গত তিন দশকে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে অধীর চৌধুরীর মতো প্রভাবশালী নেতা খুব কমই উঠে এসেছেন।
কান্দি, রঘুনাথগঞ্জ, সুতির মতো একাধিক এলাকায় তাঁর হাত ধরেই উঠে এসেছেন বহু নেতা—যাঁদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দেন।
এই প্রেক্ষাপটে বাইরনের মন্তব্য শুধু আবেগ নয়, বরং রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতিফলনও বটে।
কৌশল না আত্মসমর্পণ?
সাগরদিঘির ভোটে এখন মূল প্রশ্ন—
বাইরনের এই ‘আত্মসমালোচনা’ কি ভোট টানার কৌশল?
নাকি সম্ভাব্য পরাজয়ের আগাম ইঙ্গিত?
যদিও বাইরন নিজেই স্পষ্ট করেছেন—
“এটা কোনও কৌশল নয়… উনি আমার কাছে ভগবানের পরেই।”
কিন্তু রাজনীতিতে কথার আড়ালে থাকে বহু স্তর।
আর সেই স্তর ভেদ করেই এখন নজর সাগরদিঘির ফলাফলের দিকে।
গীতিকারের ভাষায়, ‘জগাই-মাধাই না থাকলে নিমাইকে কে চিনত?’—
সাগরদিঘির এই লড়াই যেন সেই কথাকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এখানে শুধু ভোট নয়,
এটা সম্পর্ক, বিশ্বাস, বিশ্বাসঘাতকতা আর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের এক জটিল সমীকরণ—
যার ফল নির্ধারণ করবে শুধু একটি কেন্দ্র নয়, বরং মুর্শিদাবাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মানচিত্রও।







