পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর (West Bengal Assembly Election 2026) শেষলগ্নে এসে রাজনৈতিক লড়াই যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মাটির পাশাপাশি এবার আকাশপথও হয়ে উঠেছে প্রচারের প্রধান রণক্ষেত্র। বিজেপির অন্দরে এখন বহুল চর্চিত শব্দ— ‘কার্পেট বম্বিং’। সামরিক পরিভাষা থেকে ধার করা এই শব্দবন্ধের রূপকার্থ, প্রতিপক্ষের ঘাঁটিতে একটানা ও সর্বাত্মক আক্রমণ। বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে সেই কৌশলই প্রয়োগ করছে বিজেপি।
এই ‘আকাশ অভিযানের’ কেন্দ্রে রয়েছেন দলের অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ Amit Shah। শুধু পরিকল্পনা নয়, বাস্তবায়নেও সমান সক্রিয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রচারের গতি বাড়াতে তিনি নিজস্ব প্রোটোকলের কঠোরতা শিথিল করতেও পিছপা হচ্ছেন না— এমনটাই বলছে দলীয় সূত্র।
শনিবারের ঘটনাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি Sukanta Majumder-এর কর্মসূচি ছিল পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ও মেমারিতে। অন্যদিকে, দুপুরে Amit Shah-এর সভা নির্ধারিত ছিল জামালপুরে। সময় বাঁচাতে এবং সূচি মসৃণ রাখতে নিজের জন্য বরাদ্দ আধুনিক হেলিকপ্টারটি সকালের শিফটে সুকান্তের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দেন শাহ। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে সেই একই কপ্টার ফিরে আসে শাহকে তুলতে। ফলে সময় নষ্ট না করেই আকাশপথে ধারাবাহিক প্রচার সম্ভব হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কৌশলের লক্ষ্য একটাই— ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’। প্রচারের শেষ পর্যায়ে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে আকাশপথকে হাতিয়ার করেছে গেরুয়া শিবির।
এই কপ্টার-কৌশল শুধু শাহ বা সুকান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের আকাশে কার্যত ‘হেলিকপ্টার করিডর’ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা— Rajnath Singh, J. P. Nadda, Yogi Adityanath, Smriti Irani, Himanta Biswa Sarma, Manoj Tiwari— একের পর এক সভা সেরে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে ভরসা রাখছেন হেলিকপ্টারের ওপর।
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র ক্ষেত্রেও আকাশপথই মূল ভরসা। যদিও তাঁর জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ হেলিকপ্টার বহর থাকে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তা অন্যদের জন্য ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবুও সামগ্রিকভাবে বিজেপির প্রচার-পরিকল্পনায় আকাশপথ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘কপ্টার পলিটিক্স’ আসলে এক সুপরিকল্পিত কৌশল। অল্প সময়ে বেশি সংখ্যক জনসভা, বিস্তৃত ভৌগোলিক কভারেজ এবং নেতাদের উপস্থিতির সর্বোচ্চ ব্যবহার— সব মিলিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
প্রচারের শেষ ‘স্লগ ওভার’-এ দাঁড়িয়ে বিজেপির বার্তা স্পষ্ট— সময়ই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। আর সেই অস্ত্রকে কাজে লাগাতে মাটি ও আকাশ— দুই ময়দানেই সমান তালে লড়াই চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির।







