খেলাধুলা

৩০ টাকার অটোভাড়া থেকে ৩০ লক্ষের চুক্তি: গুজরাত-বধের রাতেই লড়াইয়ের গল্পে ফিরলেন অশ্বিনী

মোহালির উপকণ্ঠের ছোট্ট গ্রাম ঝাঁঝারি থেকে উঠে এসে আলো কেড়ে নিলেন এক তরুণ পেসার। নাম Ashwani Kumar। কঠোর পরিশ্রম, অনিশ্চয়তা আর সীমিত সামর্থ্যের ভিতর দিয়ে গড়ে ওঠা তাঁর গল্প এখন ভারতীয় ক্রিকেটে অনুপ্রেরণার নতুন অধ্যায়।
সকাল পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠা, সাইকেল বা শেয়ার অটো ধরে ১১ কিলোমিটার দূরে পিসিএ স্টেডিয়ামে পৌঁছনো—এই ছিল রোজকার রুটিন। রাত দশটায় বাড়ি ফেরা, আবার ভোরে শুরু একই লড়াই। ক্যানভাসের জুতো পায়ে বোলিং, বন্ধুরা টাকা জোগাড় করে বল কিনে দিত—এভাবেই শুরু হয় অশ্বিনীর ক্রিকেট-যাত্রা।
গতরাতে আমদাবাদের Narendra Modi Stadium-এ যেন নিজের আগমনের ঘোষণা করলেন তিনি। Mumbai Indians-এর জার্সিতে ২৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কার্যত ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন অশ্বিনী। প্রতিপক্ষ Gujarat Titans-কে ৯৯ রানে হারায় মুম্বই।

প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই আউট Shubman Gill। এরপর ধারাবাহিকভাবে শিকার Rahul Tewatia, Rashid Khan এবং Shah Rukh Khan। মাত্র তিন ওভারে চার উইকেট—ব্যাটিং সহায়ক পিচেও নিখুঁত লাইন-লেন্থে ভেঙে দেন প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড।

অন্যদিকে, ব্যাট হাতে ঝলসে ওঠেন Tilak Varma, তাঁর অপরাজিত সেঞ্চুরি মুম্বইয়ের বিশাল স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। তবু আলোচনার কেন্দ্রে একটাই নাম—অশ্বিনী।
ম্যাচ শেষে Ravi Shastri-র সঙ্গে কথোপকথনে আত্মবিশ্বাসী অশ্বিনী বলেন,
“মনে মনে জানতাম এই ম্যাচে ভাল করব। গত বছরও করেছি, এবারও দেখালাম।”

এই আত্মবিশ্বাস হঠাৎ তৈরি নয়। গত মরসুমেই প্রথম আইপিএল ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন তিনি—সেই ম্যাচেও বড় বড় ব্যাটারদের সাজঘরে ফেরান।
অশ্বিনীর বাবা হরকেশ কুমারের কথায় উঠে আসে লড়াইয়ের বাস্তব ছবি—
প্রতিদিন অটোভাড়ার জন্য ৩০ টাকা দিতেন তিনি। সেই ছেলেকেই আজ ৩০ লক্ষ টাকায় কিনেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।

বন্ধু চাহাত রানা জোগাড় করতেন বল আর স্পাইক। গ্রামের মাঠে সকাল-বিকেল অনুশীলন—সেই সংগ্রামই আজকের সাফল্যের ভিত।
অশ্বিনী জানান, ম্যাচের আগেই অধিনায়ক Hardik Pandya-র সঙ্গে পিচ নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করেছিলেন। এই উইকেটে লেন্থ বল কার্যকর হবে—সেই অনুযায়ী বল করেই সাফল্য পেয়েছেন। শাহরুখ খানের উইকেট আসে শর্ট বলেই—যা ছিল পরিকল্পনার অংশ।
চলতি মরসুমে প্রথম পাঁচ ম্যাচে সুযোগ পাননি। কিন্তু দল টানা হারতে থাকায় পরিবর্তন আনা হয়। সুযোগ পেয়েই ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স—এ যেন নিজের জায়গা দাবি করে নেওয়ার গল্প।
৩০ টাকার অটোভাড়া থেকে ৩০ লক্ষের আইপিএল চুক্তি—অশ্বিনী কুমারের যাত্রা শুধু ক্রিকেট নয়, ইচ্ছাশক্তির প্রতীক। তিনি মনে করিয়ে দিলেন—দাম নয়, দিনের শেষে দক্ষতাই আসল পরিচয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.