উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় ত্রাণ দুর্নীতিকে ঘিরে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাৎ এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বাদুড়িয়া পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যকে। তাঁর অফিস ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পুলিশের তল্লাশির পর বিপুল পরিমাণ ত্রাণের ত্রিপল এবং নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর প্রথমে পুরপ্রধানের অফিস এবং খামারবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে প্রায় ৪ হাজার সরকারি ত্রাণের ত্রিপল উদ্ধার হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ এই সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা হয়েছিল। পরে তদন্ত আরও এগোতেই দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার কেন্দ্রেও তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা নগদ এবং আরও ত্রিপলের বান্ডিল।
তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রাথমিক অনুমান, ত্রাণ বণ্টন ব্যবস্থার ফাঁকফোকর এবং প্রশাসনিক নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলছিল। সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এরপরই গ্রেফতার করা হয় পুরপ্রধানকে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরিয়ে ফেলা হচ্ছিল। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার পর থেকেই বাদুড়িয়া পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগের সময় মানুষের জন্য আসা ত্রাণের এমন অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।







