আদি তৃণমূল ও নব তৃণমূল—দুই পৃথক ব্লকের গঠন এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বীকৃতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রথমবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, কোনও নেতার নিজের দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার অধিকার অবশ্যই রয়েছে। তবে সেই অবস্থানকে মর্যাদা দিতে হলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত, কারণ তিনি দলের প্রতীক ও নেতৃত্বের ভিত্তিতেই নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে নাম না করেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন বাবুল।
একইসঙ্গে দলের অতীত কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বাবুলের দাবি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই যাঁরা দুর্নীতি বা বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তাঁদের একাংশ আজ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হয়ে উঠেছেন, আর বাকিরা কেউ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, কেউ বা আইনি জটিলতায় জড়িয়েছেন।
আরও এক ধাপ এগিয়ে বাবুল বলেন, একজন ব্যক্তির আচরণ তাঁকে সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, তিনি কখনও ভাবেননি যে পরিচিত পরিসরের মধ্যেই এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যিনি মানুষের মুখোশ পরে ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে চলাফেরা করছিলেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিজেপি যেন অন্য রাজ্যের মতো সেই ব্যক্তিকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের সুসময়কালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এভাবে প্রকাশ্যে সরব হতে দেখা যায়নি। কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে তাঁর সক্রিয় অবস্থান নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
শেষে বাবুল সুপ্রিয় লেখেন, রাজনীতি হোক বা ব্যক্তিগত জীবন—অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার রাখে। যদিও রাজনৈতিক দলে থেকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ সবসময় সহজ নয়, তবুও তিনি অতীতেও তা করেছেন এবং তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যকেও সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।







