বিশ্ব

ট্রাম্পের ‘চুক্তি প্রায় প্রস্তুত’ দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে ফের কূটনৈতিক টানাপোড়েন

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই ফের নতুন করে জল্পনা উসকে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির খসড়া প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপের কোনও দেশে সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই ভিন্ন সুর শোনা যায় তেহরান থেকে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যেসব খবর ছড়ানো হচ্ছে, তার অধিকাংশই অনুমানভিত্তিক বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্পের ধারাবাহিক ইতিবাচক মন্তব্যের পিছনে রয়েছে কূটনৈতিক কৌশল। তাঁদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির কথা বারবার তুলে ধরে ওয়াশিংটন একদিকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে চাইছে যে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নয়, আলোচনার পথেই সমাধান খুঁজছে।

সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। অভিযোগ, মার্কিন প্রশাসনের অবস্থানের তোয়াক্কা না করেই তেল আবিব একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে। এমন অবস্থায় ইরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা হলে তা গোটা অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, অতীতেও একাধিকবার ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এরই মধ্যে চলতি বছরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কয়েক দফা চরমে ওঠে। পাল্টাপাল্টি হামলা, ইজরায়েলের সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রভাব ফেলেছে।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হল ইরানকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তাঁর দাবি, সমঝোতা কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালীও স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরবে।

তবে তেহরানের স্পষ্ট অস্বীকৃতির পর এখন প্রশ্ন উঠছে—আসলেই কি কোনও চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে, নাকি এটি কূটনৈতিক চাপ তৈরির আরেকটি প্রচেষ্টা? আন্তর্জাতিক মহল আপাতত নজর রাখছে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং তেল আবিবের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.