কলকাতা: দীর্ঘদিনের মাওবাদী কার্যকলাপ ছেড়ে সমাজের মূলস্রোতে ফিরলেন প্রাক্তন মহিলা মাওবাদী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। বুধবার কলকাতায় পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের উপস্থিতিতে নগরপালের হাতে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে সাংস্কৃতিক শাখার সদস্য হিসেবে মাওবাদী সংগঠনে যোগ দেন পুষ্পা। পরবর্তীকালে ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্তবর্তী জঙ্গলমহল এলাকায় সক্রিয়ভাবে কাজ করেন এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি এলাকার মেচুয়া গ্রামে।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মাওবাদী কার্যকলাপ ত্যাগ করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দেওয়ার পর তিনি জানান, সরকারের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার আশ্বাসের উপর ভরসা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুষ্পার দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে বাসস্থান ও জীবিকার সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই তিনি নতুনভাবে জীবন শুরু করার সাহস পেয়েছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পথ ছেড়ে শান্তিপূর্ণ সামাজিক জীবনে ফেরাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
এদিন তিনি এখনও যারা মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের প্রতিও অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরে আসার আহ্বান জানান। পুষ্পার কথায়, “স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ জীবনের কোনও বিকল্প নেই। সমাজের সঙ্গে থেকে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
রাজ্য প্রশাসনের মতে, পুনর্বাসন প্রকল্পের মাধ্যমে সমাজবিরোধী ও চরমপন্থী কার্যকলাপ ছেড়ে মূলধারায় ফেরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। পুষ্পার আত্মসমর্পণ সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলে মনে করা হচ্ছে







