২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। একাধিক সাংসদের বিদ্রোহ এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার দিল্লিতে লোকসভা সচিবালয়ে গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানান। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের একাংশের সাংসদদের নিয়ে গঠিত নতুন দল ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-এর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
রচনার এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কারণ, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তাঁর সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ। ফলে তাঁর অবস্থান পরিবর্তনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে এই বিতর্কের মাঝেই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন রচনা। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বদলালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা অটুট থাকবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হুগলির মানুষের স্বার্থ, উন্নয়নের প্রয়োজন এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
রচনার মতে, দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাতের জেরে উন্নয়নের গতি ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করাই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই তিনি নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতেই প্রভাব ফেলবে না, আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাঁর এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।







