বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবির পর এবার বড় ধাক্কা এল শিলিগুড়ি পুরনিগমেও। দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেতা গৌতম দেব শুক্রবার সকালে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনৈতিক মহলের জল্পনাকে আরও উসকে দিলেন। তিনি ইতিমধ্যেই নিজের পদত্যাগপত্র পুর কমিশনারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
কয়েকদিন আগেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ইচ্ছা ছিল, তিনি পুর প্রশাসনের দায়িত্ব থেকে সরে এসে সংগঠনের কাজে আরও বেশি সময় দিন। কিন্তু পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁর এই পদত্যাগ শিলিগুড়ির রাজনৈতিক অন্দরে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও আপাতত তিনি শুধুমাত্র মেয়র পদ থেকেই সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, আগামী দিনে তিনি দলের অন্যান্য পদ এমনকি দল থেকেও ইস্তফা দিতে পারেন বলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে গৌতম দেবের পথচলা দীর্ঘদিনের। ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রথম মন্ত্রী হন। পরে ২০১৬ সালে পর্যটন দফতরের দায়িত্বও সামলান। তবে ২০২১ সালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি কেন্দ্র এবং ২০২৬ সালে শিলিগুড়ি কেন্দ্র—দুই বিধানসভা নির্বাচনেই তাঁকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়।
এর মধ্যেই ২০২২ সালের পুরনিগম নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে শিলিগুড়িতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সাফল্যের জেরেই তিনি মেয়রের দায়িত্ব পান। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের আবহে এবার সেই পদ থেকেও সরে গেলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মেয়র পারিষদদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন গৌতম দেব। সেখানেই তিনি প্রথমবার পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানান। এরপর থেকেই পুরবোর্ডের অন্দরে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের একাংশ তাঁর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও অন্য অংশ মাঝপথে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিরোধিতা করেন।
বোর্ডের অনেক সদস্যের বক্তব্য ছিল, বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ এখনও এক বছরেরও বেশি সময় বাকি। তাই এই মুহূর্তে দায়িত্ব ছাড়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু সমস্ত আপত্তি উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন গৌতম দেব এবং শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন।







