তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভবনের অনুমোদিত প্ল্যানে তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ একাধিক পুর আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর রয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতি চলেছে। তাঁর দাবি, নিয়ম ভেঙে নির্মাণকাজের অনুমোদন দেওয়ার ফলেই শহরে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কোনও ব্যক্তিকে রেয়াত করা হবে না এবং তদন্তে যার নাম উঠে আসবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারাতলার এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত ২০ জন। মৃত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বিধানসভায় তিনি আরও দাবি করেন, জরুরি উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম পুরসভার কাছে ছিল না। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে হয়েছে। সেনার বিহার রেজিমেন্ট অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় বলে তিনি জানান।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়াও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, একাধিক নির্মাণ অনুমোদনের নেপথ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা রয়েছে, যা তদন্তে সামনে আসতে পারে।
তারাতলা বিপর্যয়ের পর প্রশাসনের নজর এখন বেআইনি নির্মাণ, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগের দিকে। তদন্তের অগ্রগতির উপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।







