কলকাতা

তারাতলা বিপর্যয়ে তদন্তে যাদবপুরের বিশেষজ্ঞ দল, উদ্ধার শেষ হলেই শুরু হবে নমুনা পরীক্ষা

তারাতলার নির্মীয়মাণ ভবন ধসের ঘটনায় একের পর এক নির্মাণগত ত্রুটি সামনে আসছে। নকশা প্রণয়ন থেকে শুরু করে নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুতর গাফিলতির জেরেই বুধবার দুপুরে মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে বহুতলটি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে একাধিক বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণের চিত্র। এত অনিয়মের মধ্যেও কীভাবে কাজ চলছিল, তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের আবেদনে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল। কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে দলটি তারাতলায় পৌঁছালেও উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় এখনও পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে তদন্তের কাজ এগোবে।

জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া বাণিজ্যিক ভবনটি গুদাম ও হিমঘর হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হচ্ছিল। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণেই নকশা ও নির্মাণে একাধিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত মিলেছে। সেই কারণেই গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগিতা চায় কলকাতা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদনের পর পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। এই দলে রয়েছেন আর্কিটেকচার বিভাগের মৈনাক ঘোষ, মেটালার্জি ও মেটিরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মহম্মদ বশিরউদ্দিন শেখ এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক দীপঙ্কর চক্রবর্তী ও সম্রাট সেনগুপ্ত।

শনিবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে পার্থপ্রতিম বিশ্বাস জানান, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত পরিদর্শন সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে, ফলে সেখানে দেহাবশেষ আটকে থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, পুলিশের অনুরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি নিয়ে তাঁরা এসেছেন। তদন্ত দুটি ধাপে হবে। প্রথমে ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে, তারপর ধ্বংসস্তূপ থেকে নির্মাণসামগ্রী ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। সেই পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হবে।

এদিকে শনিবার দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান আপাতত শেষ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকে নেই। ফলে খুব শিগগিরই বিশেষজ্ঞদের বিস্তারিত তদন্ত ও নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.