তারাতলা-কাণ্ডে প্রাক্তন কলকাতা মেয়র তথা তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমের সই ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কে ফের সরব হলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি দাবি করেন, আগের দিনের তুলনায় মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান অনেকটাই রক্ষণাত্মক ছিল এবং তাতেই তাঁর আগের বিশ্লেষণ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে।
কুণাল ঘোষের বক্তব্য, তারাতলা ইস্যুতে ফিরহাদ হাকিমের সই নিয়ে তৃণমূল কখনও বিতর্ক তৈরি করেনি। বরং মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিধানসভায় একটি নথি তুলে ধরে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছিলেন এবং কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিকভাবে পাল্টা অবস্থান নেওয়াই ছিল তৃণমূলের কৌশল।
তৃণমূল নেতার দাবি, কোনও নথিতে কারও সই থাকা মানেই তা অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত ছিল, যাতে মনে হয়েছিল ওই সইয়ের সঙ্গে গুরুতর কোনও অনিয়ম জড়িত। সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলেন— যদি সত্যিই সইয়ের ভিত্তিতে অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে বলেই ধরে নিতে হবে।
কুণাল ঘোষ আরও বলেন, বিরোধী শিবিরের লক্ষ্য ছিল তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা এবং রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখা। কিন্তু সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে আগের দিনের সেই আগ্রাসী সুর দেখা যায়নি বলেই তাঁর দাবি। কুণালের কথায়, এই পরিবর্তিত অবস্থানই প্রমাণ করছে যে বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই সামনে আনা হয়েছিল।
ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, ‘ববিদা’র সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত কারণে নয়, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই তিনি ওই সময় মন্তব্য করেছিলেন। সোমবারের ঘটনার পরও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেন, প্রথম থেকেই যে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই বিশ্লেষণকেই সমর্থন করছে।
তবে উল্লেখ্য, এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক দাবির বিষয়ে আলাদা কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।







