প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। পুজোর পাস বিক্রির নামে আর্থিক প্রতারণা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সরকারি টেন্ডারে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর গ্রেফতারির পর এবার মুখ খুললেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ইন্দ্রনীলকে নিশানা করার পাশাপাশি ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, গত পাঁচ বছরে ইন্দ্রনীল সেন তাঁর কোনও কথাই শুনতেন না।
ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন কল্যাণ। তাঁর দাবি, তৃণমূলের বহু কর্মী কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ ছাড়াই সততার সঙ্গে রাজনীতি করেন। কিন্তু কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সেই কর্মীদের কাছেও অস্বস্তিকর।
কল্যাণের কথায়, মন্ত্রী থেকে শুরু করে জেলা পরিষদ, পুরসভা কিংবা পঞ্চায়েতের মতো বিভিন্ন স্তরে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ সামনে আসছে। অন্যদিকে, যাঁদের হাতে ক্ষমতা ছিল না, তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলনামূলকভাবে কম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এরপরই নাম না করে নয়, সরাসরি ইন্দ্রনীল সেনকে নিশানা করেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ রাজনীতিকে জনসেবার মাধ্যম হিসেবে না দেখে ব্যবসার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। কল্যাণের কথায়, “এরা কোনও রাজনীতি করতে আসেনি। এরা ব্যবসা করতে এসেছিল।” পাশাপাশি তাঁর দাবি, গত পাঁচ বছরে ইন্দ্রনীল সেন তাঁর কোনও কথাই শুনতেন না।
এখানেই থেমে থাকেননি শ্রীরামপুরের সাংসদ। রাজনৈতিক ক্ষমতার মেয়াদ নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেছেন তিনি। কল্যাণের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের পাঁচ থেকে দশ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির সত্যতা শেষ পর্যন্ত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়াতেই স্পষ্ট হবে।







