এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ক্যান্টিন খাতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত অর্থবর্ষেই ক্যান্টিন বাবদ এক কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। এত বড় অঙ্কের ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তরজা। জানা গিয়েছে, সেই সময়ই এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষা সংসদের ফিন্যান্স অফিসার।
সূত্রের দাবি, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবারের দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট ক্যান্টিন সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তৎকালীন সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যও স্বীকার করেছেন যে ব্যয়ের পরিমাণ নিয়ে তাঁরও সংশয় ছিল। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ফিন্যান্স অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে নতুন করে টেন্ডার ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁর বক্তব্য, তদন্ত হলে তিনি কমিটির সামনে সমস্ত তথ্য তুলে ধরবেন। একইসঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও প্রাথমিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েছে।
বর্তমানে আশুতোষ কলেজে মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত প্রিয়দর্শিনী মল্লিক ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের স্থায়ী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান। তার আগে তাপস মুখোপাধ্যায় ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তবে রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর প্রিয়দর্শিনীকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মে মাসের মাঝামাঝি স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশে তাঁকে সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আগের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে তাঁর কার্যকালের এই বিপুল ব্যয় নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রিয়দর্শিনী মল্লিক। তাঁর দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই একটি সংস্থা কাজের বরাত পেয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে কোনও লিখিত চুক্তিও ছিল না। পাশাপাশি তিনি বলেন, শিক্ষা সংসদের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সভাপতির হাতেই থাকে। তাই কেন ওই ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা তৎকালীন সভাপতিই দিতে পারবেন। তাঁর কথায়, সভাপতির কাছে যদি সেই খরচ প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়ে থাকে, সেই কারণেই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।







