কোচবিহারের শীতলকুচিতে সফর চলাকালীন গাড়িতে ডিম নিক্ষেপের অভিযোগের জেরে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ তাঁর আবেদন গ্রহণ করে নিয়ম মেনে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়মেই মামলার শুনানি হবে।
মিনাক্ষীর আইনজীবী আদালতে জানান, শীতলকুচিতে দলের মৃত কর্মী মন্টু মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়িকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি শীতলকুচির বাসিন্দা মন্টু মিয়ার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং খুনের ঘটনা। অভিযোগ, প্রথমদিকে পুলিশ অভিযোগ নথিভুক্ত করতেও অনীহা দেখায়। ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই সেখানে গিয়েছিলেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। একই সঙ্গে মুম্বইয়ে কর্মরত অবস্থায় মারা যাওয়া এক পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ ফেরানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কোচবিহারের জেলাশাসকের দফতর অভিযানের কর্মসূচি নেয় বামেরা।
সেই কর্মসূচিতে যাওয়ার আগেই বাজার এলাকায় মিনাক্ষীর গাড়িতে ডিম নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকেই তিনি সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন এবং পরে কোচবিহারের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপি সমর্থকেরা রয়েছে এবং পুলিশ যথাযথ ভূমিকা নেয়নি। যদিও বিজেপি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি একই ধরনের ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। সেই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন আদালত খারিজ করে জানায়, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই সব মামলার শুনানি হবে। এবার একই ধরনের অভিযোগে আদালতের শরণাপন্ন হলেন মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও।







