পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও নির্বাচনী কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। রাজ্যে নতুন করে চার হাজারেরও বেশি পঞ্চায়েত গঠন, কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০০ করা এবং ভবিষ্যতে লোকসভা, বিধানসভা ও ব্লকের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বুথের সংখ্যায় ব্যাপক বৈষম্য রয়েছে। কোথাও একটি ওয়ার্ডে ৭৬টি বুথ, আবার কোথাও মাত্র ১২টি বুথ থাকা সত্ত্বেও উভয় ক্ষেত্রেই একজন করে কাউন্সিলর রয়েছেন। তাঁর মতে, এই অসামঞ্জস্য দূর করতেই ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস জরুরি।
তিনি আরও দাবি করেন, শুধু পুরসভাই নয়, জেলার সীমানা, লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রের বিন্যাসেও দীর্ঘদিন ধরে ভারসাম্যের অভাব রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় তিনটি লোকসভা কেন্দ্র থাকলেও উত্তর ২৪ পরগনায় রয়েছে পাঁচটি। আবার কালিম্পং একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্র নিয়েই জেলা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩০টিরও বেশি সদস্য রয়েছেন, যা প্রশাসনিক কাজে জটিলতা তৈরি করছে। অন্য অনেক রাজ্যে একটি পঞ্চায়েতে তিন থেকে চারজন সদস্য নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ চলছে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গে চার হাজারের বেশি নতুন পঞ্চায়েত গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, বড় বড় বিধানসভা এলাকায় বিপুল সংখ্যক বুথ থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। যেমন, নারায়ণগড় বিধানসভায় আড়াইশোরও বেশি বুথ রয়েছে। এত বিশাল এলাকা একজন বিডিওর পক্ষে দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা কঠিন। তাই প্রশাসনিক সুবিধা ও সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতেই নতুন ব্লক, পুরসভা, কর্পোরেশন এবং প্রশাসনিক ইউনিট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এই ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের ভোট-মানচিত্র এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা। তবে কবে থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে বা কীভাবে তা কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানানো হয়নি।







