খেলাধুলা

বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম হাফটাইম শো, ৩০ মিনিটের বিরতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক

আগামী রবিবার বিশ্বকাপের মহারণে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচেই প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো আয়োজন করতে চলেছে ফিফা। এর জেরে বিরতির সময় প্রচলিত ১৫ মিনিটের বদলে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৩০ মিনিট। এর মধ্যে প্রায় ১১ মিনিট জুড়ে থাকবে জমকালো সঙ্গীতানুষ্ঠান।

এই বিশেষ অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বিটিএস, জাস্টিন বিবার, বার্না বয়, গুস্তাভো দুদামেল এবং পিএস২২ কোরাস। পুরো আয়োজনের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কোল্ডপ্লের প্রধান শিল্পী ক্রিস মার্টিন।

ফিফার দাবি, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো FIFA Global Citizen Education Fund-এর প্রচার। মঞ্চ নির্মাণ, শিল্পীদের পরিবেশনা এবং অনুষ্ঠান শেষে দ্রুত মঞ্চ সরিয়ে মাঠকে পুনরায় খেলার উপযোগী করে তুলতেই অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হবে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা IFAB-এর Law 7 অনুযায়ী, সাধারণভাবে একটি ম্যাচে হাফটাইমের সর্বোচ্চ সময় ১৫ মিনিট। তবে প্রতিযোগিতার আয়োজক সংস্থা বিশেষ পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। সেই নিয়ম মেনেই বিশ্বকাপ ফাইনালে বিরতির সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা। অনেকের আশঙ্কা, এত দীর্ঘ বিরতির ফলে ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে খেলোয়াড়দের শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, ফলে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে আবার ওয়ার্ম-আপ করতে হতে পারে। অতীতেও এমন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় খেলোয়াড়দের শারীরিক দিক বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছিল।

সমালোচকদের একাংশের মতে, ফুটবলের ঐতিহ্যের চেয়ে বিনোদন ও বাণিজ্যিক দিককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ফিফা। তাঁদের প্রশ্ন, ম্যাচ শুরুর আগে যখন জাঁকজমকপূর্ণ ক্লোজিং সেরেমনির আয়োজন থাকছেই, তখন আলাদা করে দীর্ঘ হাফটাইম শোর প্রয়োজনীয়তা কতটা?

অতীতের নজির

এর আগেও ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পরীক্ষামূলকভাবে হাফটাইম বিনোদন শো আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ম্যাচে কনসার্টের কারণে বিরতি প্রায় ২৪ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে আরও বড় পরিসরে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পীদের পরিবেশনার মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফাইনালকে আরও বর্ণাঢ্য করে তোলাই ফিফার লক্ষ্য। তবে এই নতুন উদ্যোগ যতটা আকর্ষণ তৈরি করেছে, ততটাই উসকে দিয়েছে বিতর্কও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.