নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের উত্তাপ! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘কালিমালিপ্ত’ করার অভিযোগে বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানির মামলার আবেদনে এবার সাফ ‘না’ বলে দিল নগর দায়রা আদালত। কৌস্তভের আইনজীবী মামলাটি খারিজের আর্জি জানান, কিন্তু আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
তবে নিজের অবস্থানে অনড় কৌস্তভ। আদালতের রায়েও দমেননি তিনি। সরাসরি অভিযোগ করেন, “রাজ্য সরকার পরিকল্পিত ভাবে আমাকে হেনস্থা করছে। কিন্তু তাতে কিছু হবে না। যেই বই থেকে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছি, তা কোনও নিষিদ্ধ বই নয়।”
উল্লেখযোগ্য, সেই বিতর্কিত বইয়ের লেখক তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দীপক ঘোষ। বইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে রয়েছে বিস্ফোরক মন্তব্য—যা নিয়েই আপত্তি তুলেছে শাসকদল।
কৌস্তভ অবশ্য একেবারে লড়াকু মেজাজে। বলেন, “আমি ব্যক্তি মমতাকে নিয়েই কিছু বলেছি। আর সেটাও বইয়ের বক্তব্য। এতে যদি মামলা হয়, তবে প্রতিটি মামলাই নন-মেন্টেনেবল হবে। রাজ্য সরকার যতই চেষ্টা করুক, আমার কিছুই হবে না।”
রাজনীতির প্রেক্ষাপটে কৌস্তভের এই অবস্থান নতুন নয়। কংগ্রেসে থাকার সময় থেকেই মমতার বিরুদ্ধে তির ছুঁড়েছেন। বিজেপিতে যোগ দিয়ে সেই ধারায় আগুন জুড়েছেন আরও। কয়েক বছর আগে, মাঝরাতে গ্রেফতারও করা হয়েছিল তাঁকে—যা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
গ্রেফতার পর্বে মাথা মুড়িয়ে কৌস্তভ বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যতদিন না সরাতে পারছি, ততদিন চুল রাখব না। ওঁর রাতের ঘুম কেড়ে নেব।”
এখন ফের সেই লড়াইয়ে নতুন অধ্যায়। মামলা খারিজ না হলেও আত্মবিশ্বাসে টাল খাচ্ছেন না কৌস্তভ। আর রাজ্য রাজনীতির নাট্যমঞ্চে এই মামলা হয়ে উঠেছে নতুন আগুনের সঞ্চার।







