নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঁথি মোড়ের দুর্গাপূজা এবারের জন্য চন্দ বংশের সদস্যদের জন্য এক বিশেষ মিলনক্ষেত্র হিসেবে রূপ নিয়েছে। ১৯৪৬ সালের নোয়াখালী দাঙ্গার আগে অধুনা বাংলাদেশে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা যে জাঁকজমকপূর্ণ দুর্গাপূজা আয়োজন করতেন, সেই ঐতিহ্য এবার নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে।
রাজীব চন্দ এবং তাঁর স্ত্রী সংযুক্তা চন্দ ও পুত্র রাজ্যপ্রিয় চন্দ এই উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা। চন্দ বংশের প্রবীণরা জানান, দেশভাগের পর সেই উৎসবের স্মৃতি কেবল বেদনাদায়কই ছিল। সেই হারানো ঐক্য ও আন্তরিকতাকে ফিরিয়ে আনতেই এই মণ্ডপে বিরাট শামিয়ানা স্থাপন করা হয়েছে, যা বংশের ঐতিহ্যের প্রতীক।
পূজার সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চন্দ বংশের সদস্যরা একত্রিত হন। এটি কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, বহু বছর ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা আত্মীয়-স্বজনদের এক মহৎ পারিবারিক পুনর্মিলন। এক বংশসদস্য আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, “বহু বছর পর আমাদের বংশের মিলন ঘটল। আমরা সবাই মিলে এটি উদযাপন করেছি এবং খুব আনন্দ পেয়েছি।”
চন্দ বংশের এই ঐক্যবদ্ধ উদযাপন প্রমাণ করে, দাঙ্গা বা দেশভাগ মানুষের শিকড় ও পারিবারিক বন্ধনকে ছিন্ন করতে পারে না। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ এবং বংশীয় বন্ধন পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।







