বিশ্বকাপ জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা হল স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোল করে ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করেন ফেরান তোরেস। সেই গোলের পর থেকেই স্প্যানিশ এই তরুণকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। অনেকেরই বিশ্বাস, খুব শীঘ্রই তিনি স্পেনের অন্যতম সেরা ফুটবল তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবেন এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার মতো কিংবদন্তিদের পাশে উচ্চারিত হবে তাঁর নাম। তবে অনেকেরই অজানা, তোরেসের বিশ্বমঞ্চে উত্থানের সূচনা হয়েছিল ভারতের মাটিতে, আর সেই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় লেখা হয়েছিল কলকাতায়।
২৬ বছর বয়সী ফেরান তোরেস বর্তমানে বার্সেলোনার জার্সিতে খেললেও তাঁর ফুটবল জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে ভ্যালেন্সিয়ার অ্যাকাডেমিতে। ছোটবেলা থেকেই সেখানেই নিজেকে তৈরি করেন তিনি। ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের সুবাদে স্পেনের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। এরপর ২০১৭ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেন। আজ সিনিয়র বিশ্বকাপের ফাইনালে দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তা দেখালেও, তাঁর প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালের অভিজ্ঞতা হয়েছিল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে।
২০১৭ সালের বিশ্বকাপের শুরুটা স্পেনের জন্য সুখকর ছিল না। প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ায় দল। গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচ জিতে নকআউটে ওঠে স্পেন এবং একের পর এক জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায়। সেই আসরে ফেরান তোরেস করেছিলেন দুটি গোল, পাশাপাশি দুটি অ্যাসিস্টও করেছিলেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন নিয়েই কলকাতায় ফাইনাল খেলতে নেমেছিল স্পেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানে এগিয়েও গিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে ৫-২ গোলে হেরে রানার্স-আপ হয় স্পেন।
তবে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নেমে আর কোনও ভুল করেননি তোরেস। দীর্ঘদিন ধরে গোলের সুযোগ নষ্ট করার সমালোচনার মুখে পড়লেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। অতিরিক্ত সময়ে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তোরেস। সেই একমাত্র গোলেই স্পেনের হাতে ওঠে বিশ্বকাপ ট্রফি। ফাইনালের নায়ক হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি আবারও আলোচনায় ফিরে আসে তাঁর সেই পুরনো স্মৃতি—২০১৭ সালের অক্টোবরের এক বিকেলে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকেই শুরু হয়েছিল ফেরান তোরেসের বিশ্বজয়ের স্বপ্নযাত্রা।







