দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষানীতির অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। কিন্তু প্রশ্নফাঁস বিতর্ক ঘিরে টানা আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তাঁর পদত্যাগের পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা— যেখানে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিজেপির পূর্ব ভারতের বিস্তারের অন্যতম স্থপতি হয়ে ওঠার ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।
ওড়িশার তালচেরে রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম ধর্মেন্দ্র প্রধানের। তাঁর বাবা দেবেন্দ্র প্রধানও ছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। সেই সূত্রেই ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ধর্মেন্দ্রর। তালচের কলেজে পড়াকালীন ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র হাত ধরেই তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন শুরু।
উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সাংগঠনিক দায়িত্বও দ্রুত বাড়তে থাকে। একসময় এবিভিপি-র জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ছাত্র আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা ধর্মেন্দ্র ১৯৯৭ সালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রকে নিয়ে ওড়িশা বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জে আহতও হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
এরপর নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশ। ২০০০ সালে ওড়িশা বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর ২০০৪ সালে প্রথমবার লোকসভায় নির্বাচিত হন। পরে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং ধীরে ধীরে বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর প্রথম মন্ত্রিসভায় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় প্রবেশ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ২০১৭ সালে পূর্ণমন্ত্রী হন। জ্বালানি ক্ষেত্রে একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পর ২০২১ সালে তাঁর হাতে আসে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব। জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়েও নেতৃত্ব দেন তিনি।
শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভূমিকা বারবার আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিহারে ভোটের কৌশল নির্ধারণ, ওবিসি ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তার এবং ওড়িশায় দীর্ঘদিনের বিজেডি শাসনের অবসান ঘটাতে বিজেপির সাফল্যের নেপথ্যে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। পশ্চিমবঙ্গেও দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর প্রচার কৌশলেও তাঁর ভূমিকার কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।
ছাত্র রাজনীতির ময়দান থেকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু— ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক জীবনের পথচলা ছিল দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল। তবে প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে তাঁর পদত্যাগ সেই রাজনৈতিক অধ্যায়ে এক নতুন মোড় এনে দিল।







