কলকাতায় নিট (NEET) ইস্যুতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করেছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
গত শুক্রবার নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কলকাতার রাস্তায় আয়োজিত মিছিলে খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন একাধিক সাংবাদিক। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ভিড়ের মধ্যেই তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় আহত এক সাংবাদিক কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বুধবার মামলার শুনানিতে আদালত রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করে।
শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মামলা কোনও ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা করার জন্য নয়। বরং ভবিষ্যতে মিছিল বা বিক্ষোভে যাতে দুষ্কৃতীমূলক বা অসামাজিক কার্যকলাপ না ঘটে, তার জন্য রাজ্য সরকারের একটি নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, কোনও মিছিলে অশান্তি বা হামলার ঘটনা ঘটলে তার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বা আয়োজকদের উপর বর্তানো উচিত বলেও আদালতে দাবি জানানো হয়।
এদিকে, ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, ছাত্র-ছাত্রীদের উপর লাঠিচার্জ ও পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ-সহ দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল, বিহার, অসম, উত্তরপ্রদেশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে কোনও ছাত্র-ছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এই আবহে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রশ্নে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইন মহল।







