দেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল লিগ আইএসএলের (ISL) ভাগ্য এখন সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে। ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) সম্ভবত আজ, মঙ্গলবার, শীর্ষ আদালতে একটি আবেদন জমা দেবে। কারণ, আইএসএলের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ জানাতে চলেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাগেশ্বর রাও। টেন্ডার ডাকার পর বাজারে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আজ সুপ্রিম কোর্টে জমা দেবেন।
টেন্ডারের আগে ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে এফএসডিএল-সহ (FSDL) বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। সেখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে: যেই সংস্থাই আইএসএল চালাতে আসুক না কেন, তারা বিপুল অর্থ খরচ করতে রাজি নয়, যদি না গভর্নিং কাউন্সিলের জায়গায় লিগ পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে দেওয়া হয়। সহজ কথায়, বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো শুধু অর্থ ঢালবে না, তারা কর্তৃত্বও চায়।এ ছাড়া আরও দুটি শর্ত নিয়ে জটিলতা রয়েছে, লিগের রেলিগেশন-প্রোমোশন এবং বিডের শর্ত হিসেবে ফেডারেশনকে বার্ষিক সাড়ে সাঁইত্রিশ কোটি টাকা দেওয়ার বিষয়টি।
আইনি জটিলতায় রেলিগেশন-প্রোমোশন
ফেডারেশনের হাতে বার্ষিক টাকার অঙ্ক কমানো-বাড়ানোর ক্ষমতা থাকলেও, রেলিগেশন-প্রোমোশন নিয়ে সহজে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথ নেই। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই ফেডারেশনের যে নতুন সংবিধান তৈরি হয়েছে, তাতে এই বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সর্বোপরি, সর্বোচ্চ আদালত আগেই জানিয়েছিল যে দেশের প্রধান লিগ পরিচালনার ভার থাকবে ফেডারেশনেরই হাতে। তাই গভর্নিং কাউন্সিল বা রেলিগেশন-প্রোমোশন সংক্রান্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হবে।এই কারণেই আজ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাগেশ্বর রাও আইএসএলের টেন্ডার সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ আদালতকে জানাবেন। এখন গোটা ফুটবল মহল তাকিয়ে আছে আদালতের রায়ের দিকে। তবে একটা বিষয় নিয়ে ফেডারেশন কর্তাদের কপালে ভাঁজ—আদালতের রায়ের পর যদি নতুন শর্ত তৈরি করে ফের টেন্ডার ডাকতে হয়, তাহলে লিগ শুরু করার জন্য হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকবে না।







