নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবরের মাঝেই বাংলার এক পরিবারে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তার ছায়া। নেপাল সফরে গিয়ে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বারাসাতের পাওনিয়ার পার্ক এলাকার বাসিন্দা তথা শিক্ষিকা সুস্মিতা ভট্টাচার্য। বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ না মেলায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।
জানা গিয়েছে, গত ২১ অগস্ট প্রায় ৩০ জনের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সুস্মিতা। কলকাতার একটি বেসরকারি পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে ওই সফরের আয়োজন হয়েছিল। নেপালে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছিল। কিন্তু এরপর পরিস্থিতি বদলে যায়।
প্রথমে কাঠমান্ডুতে পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শন করেন পর্যটক দলের সদস্যরা। সেখান থেকে তাঁদের মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। পথে কেরুং এলাকার দিকে যাওয়ার সময় কোনও এক পর্যায়ে সুস্মিতার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বারবার ফোন করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে। নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে থাকতে পারে বলেই প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সুস্মিতা ঠিক কোথায় রয়েছেন বা তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পরিবারের হাতে নেই।
সুস্মিতা পেশায় শিক্ষিকা এবং স্বামীর সঙ্গে বারাসাতের বাড়িতে থাকেন। তাঁদের ছেলে কসবায় থাকেন। নেপালে বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর তাঁর স্বামীও কলকাতায় ফিরে এসেছেন বলে জানা গিয়েছে। এখন প্রশাসনের মাধ্যমে নিখোঁজ শিক্ষিকার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রিয় প্রতিবেশীকে নিয়ে উদ্বেগে বারাসাতের বাসিন্দারাও। কখন মিলবে সুস্মিতার খোঁজ, সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছে পরিবার। তাঁদের একটাই আশা—দুর্যোগের পরিস্থিতির মধ্যেও দ্রুত নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন সুস্মিতা।






