আরও চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল ‘কালীঘাট তৃণমূল’। দলের দাবি, গত ৭ জুলাই ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের চারটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। সেই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েই আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়।
তবে আপাতত ওই চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, আগে HDFC ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন চারটি অ্যাকাউন্টও ব্যবহারের অনুমতি দিলে আগের নির্দেশের গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে।
কালীঘাট তৃণমূলের তরফে আদালতে জানানো হয়, একটি রাজনৈতিক দলের বেতন, বাড়িভাড়া-সহ বিভিন্ন ধরনের নিয়মিত খরচ রয়েছে। সেই খরচ মেটানোর জন্যই আরও চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন। দলের দাবি, তাদের মোট ৮০৪ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে অ্যাকাউন্টগুলিতে হওয়া নগদ লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। রাজ্যের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে সুমিত রায় নগদে প্রায় ৭ কোটি টাকা জমা করেছিলেন। দেবরাজ চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও প্রায় ১০ কোটি টাকা নগদ জমা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রাজ্যের আরও দাবি, ওই অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রায় ৩০ কোটি টাকা লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস নামে একটি সংস্থায় স্থানান্তর করা হয়েছিল। এই সংস্থা দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বলেও আদালতে দাবি করা হয়েছে।
এর আগে HDFC ব্যাঙ্কের তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় শর্তসাপেক্ষে সেগুলি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই নির্দেশ পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টেও বহাল থাকে বলে আদালতে জানানো হয়।
এই পরিস্থিতিতে নতুন চারটি অ্যাকাউন্টের বিষয়ে এখনই কোনও পৃথক অনুমতি দিতে রাজি হয়নি হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, আগের তিনটি অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলার সঙ্গেই নতুন চারটি অ্যাকাউন্টের মামলার শুনানি হবে। দুই পক্ষকে হলফনামা আদানপ্রদানের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, নভেম্বর মাসে ফের মামলাটির শুনানি হতে পারে।
এদিকে, এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়েও আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছিল। বিদেশে চোখের চিকিৎসার জন্য যাওয়ার অনুমতি সুপ্রিম কোর্ট দেওয়ার পর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। সেই ঘটনাতেও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক।







