আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক-ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিবিআইয়ের নতুন বিশেষ তদন্তকারী দলকে (সিট) ‘ফারদার ইনভেস্টিগেশন’ শেষ করার জন্য তিন সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তের বাকি কাজ শেষ করতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।
এ দিন রুদ্ধদ্বার কক্ষে মামলার শুনানি হয়। সেখানে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেয়। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে আগে ৫৪টি নির্দিষ্ট বিষয় তদন্তের আওতায় আনার আবেদন জানানো হয়েছিল। তার মধ্যে ১৬টি বিষয় ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে সিবিআই।
তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে, ঘটনার রাতে জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য খাবার নিয়ে আসা ডেলিভারি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ওই রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে খাবার খাওয়া চার চিকিৎসকেরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
বাকি তদন্ত শেষ করতে নতুন সিট আদালতের কাছে চার সপ্তাহের সময় চেয়েছিল। তবে সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি ডিভিশন বেঞ্চ। চার সপ্তাহের বদলে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশের তদন্তের পর সিবিআই তাদের চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কে এই ঘটনায় একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সেই চার্জশিটের ভিত্তিতেই শিয়ালদহ আদালত সঞ্জয়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। কিন্তু তদন্তের ধরন নিয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে নির্যাতিতার পরিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। এরপরই আদালত সিবিআইকে নতুন করে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত চালানোর নির্দেশ দেয়।
এর আগের শুনানিতে পুরনো তদন্তের প্রভাব নতুন সিটের তদন্তে পড়ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ঘটনার রাত থেকে চিকিৎসকের কর্মস্থল হয়ে শ্মশানঘাট পর্যন্ত গোটা ঘটনার ধারাবাহিকতা ফের খতিয়ে দেখতে হবে। সেই নির্দেশের পরই সিবিআইয়ের নতুন দল আরজি কর হাসপাতালে গিয়ে ফের সরেজমিনে তদন্ত শুরু করে।







