কলকাতা

চন্দনের তিলক মুছে দেওয়ার অভিযোগ, কলকাতার স্কুল শিক্ষিকা সাসপেন্ড; প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট ঘিরেও কড়া পদক্ষেপ

কলকাতার একটি মিশনারিজ স্কুলে এক খুদে পড়ুয়ার কপালে থাকা চন্দনের তিলক বারবার মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে ওই পড়ুয়া নিজেই এই অভিযোগ জানায়। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়েছে।

এদিকে, সোশাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিকাশ ভবনের এক কর্মীকেও সাসপেন্ড করেছে শিক্ষা দপ্তর। বিষয়টি নজরে আসার পরই ওই কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়।

জলসম্পদ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, সরকারি দায়িত্বে থাকা কোনও কর্মী প্রধানমন্ত্রী কিংবা দেশের সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে অবমাননাকর বা আপত্তিকর মন্তব্য করলে তা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। পাশাপাশি জন্মাষ্টমীর ছুটি এবং সরকারি কর্মীদের কাজের দিন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও আগের সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। সরকারি দপ্তর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান— সর্বত্র নিয়ম, শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এদিনের বক্তব্যে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার গোলপার্কের রামকৃষ্ণ মিশনে বিবেকানন্দ বিদ্যাবিকাশ পরিষদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রথমবার তিলক মোছার অভিযোগের প্রসঙ্গটি প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক পড়ুয়াকে অভিযোগ করতে দেখা গিয়েছে যে, এক শিক্ষক তাঁর কপালের চন্দনের তিলক মুছে দিচ্ছেন। এমনকী, তিলক নিয়ে স্কুলে আসা যাবে না এবং মুখ ধুয়ে আসতে হবে বলেও তাঁকে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওই পড়ুয়ার।

সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কে তিলক পরবেন, কে তুলসীর মালা ব্যবহার করবেন— তা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আস্থা, পরম্পরা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। বৃহস্পতিবার তিনি স্কুলের নাম প্রকাশ না করলেও শুক্রবার অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম জানান। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, কলকাতার হলি মিশন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যেই তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.