প্রথম ম্যাচেই গোল, উত্তেজনা, বিতর্ক এবং তিন-তিনটি লাল কার্ড! ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্সে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করল সহ-আয়োজক মেক্সিকো। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফুটবলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনাও।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। তার ফলও মেলে দ্রুত। নবম মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসের ভুল পাস থেকে সুযোগ তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গুতিয়েরেসের বাড়ানো বল থেকে জুলিয়ান কিনিওনেস গোল করে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম গোলের মালিক হন। একইসঙ্গে এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে মেক্সিকোর তৃতীয় দ্রুততম গোল।
গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। দুই প্রান্ত দিয়ে ধারাবাহিক আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। প্রথমার্ধে রাউল হিমেনেস গোলের কাছাকাছি পৌঁছলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। ৫০ মিনিটে ইয়াইয়া সিথোলে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
একজন বেশি নিয়ে খেলতে নেমে চাপ বাড়ায় মেক্সিকো এবং ৬৭ মিনিটে সেই চাপের ফল পায়। রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমেনেস। দীর্ঘ চোট-আঘাত কাটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর এই গোল বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। ম্যাচের শেষ দিকে থেম্বা জোয়ানে দ্বিতীয় লাল কার্ড দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করতে গিয়ে মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্টেসও লাল কার্ড দেখেন। ফলে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই দেখা গেল মোট তিনটি লাল কার্ড, যা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
৬১ শতাংশ বল দখল, ১৫টি শট এবং ম্যাচজুড়ে আধিপত্যের সুবাদে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিল মেক্সিকো। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে এখন নকআউটে ওঠার লড়াই আরও কঠিন হয়ে গেল।







