জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা গোটা বিশ্বের। অথচ পরিবেশগত সংকটের জন্য প্রায়শই ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলিকে দায়ী করা হয়। এই বিষয়েই শনিবার সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাঁর দাবি, বিশ্বের অন্যান্য বহু দেশের তুলনায় ভারতের কার্বন নিঃসরণের হার যথেষ্ট কম। তা সত্ত্বেও বারবার জলবায়ু সংকটের দায় ভারতের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।
শনিবার ‘দ্য ফিউচার অফ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট ডায়নামিক্স’-এর আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের দায় চাপানোর প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, বিশ্বে গড় কার্বন নিঃসরণের তুলনায় ভারতের অবদান অনেকটাই কম। তাঁর দাবি, গত ১২ বছরে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। বিশেষ করে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মোদি আরও জানান, জি-২০ দেশগুলির মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যারা নির্ধারিত সময়সীমার আগেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সমস্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে। তাঁর বক্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে ভারতের সচেতনতা বহু শতাব্দী পুরনো। সেই ঐতিহ্য থেকেই বর্তমান সময়ে পরিবেশগত সমস্যার মোকাবিলায় ভারত বিভিন্ন পথ দেখাতে সক্ষম হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কোনও একটি দেশ নয়, গোটা বিশ্বকে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে চিন ও আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। মোট কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে চিনের অংশ ৩৩.৯৮ শতাংশ এবং আমেরিকার ১২ শতাংশ। মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণও দুই দেশে যথাক্রমে ৯.২৪ টন এবং ১৩.৮৩ টন। সেখানে বিপুল জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও ভারতে মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ২.০৭ টন।
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ এবং হাইড্রোজেন শক্তির মতো বিকল্প শক্তির উপর জোর দেওয়ার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিবেশ রক্ষায় ভারত ধারাবাহিকভাবে একাধিক পদক্ষেপ করছে। তাই জলবায়ু সংকটের জন্য ভারতকে একতরফাভাবে দায়ী করা উচিত নয়।







