নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির পরিবর্তন নিয়ে বড় দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার গ্রেটার নয়ডায় UP International Trade Show 2026-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, একসময় মাফিয়া-প্রভাবের জন্য পরিচিত উত্তরপ্রদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার গঠনের পর যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী হন। তাঁর দাবি, এরপর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং মাফিয়া-প্রভাব কমেছে। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলার উন্নতির সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বেড়েছে।
২০১৩ সালের প্রসঙ্গ টেনে তুললেন শাহ
নিজের বক্তব্যের পক্ষে ২০১৩ সালের একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সেই সময় উত্তরপ্রদেশে বিনিয়োগ আনতে আয়োজিত সম্মেলন লখনউয়ের পরিবর্তে দিল্লিতে করতে হয়েছিল। কারণ হিসেবে তিনি তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন।
এর সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে শাহ বলেন, আজ উত্তরপ্রদেশ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। তিনি রাজ্যের এই পরিবর্তনের কৃতিত্ব বিজেপি ও ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের নীতির সঙ্গে যুক্ত করেন।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কথাও শাহের বক্তব্যে
দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও উৎপাদন ক্ষেত্রের প্রসঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং নীতির বাস্তবায়নের ফলে ভারতে উৎপাদন শিল্পের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের ক্ষেত্রেও কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বিত নীতির কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রকাশিত আগের বক্তব্যেও উত্তরপ্রদেশে পরিকাঠামো, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছিল।
ট্রেড শো ঘিরে বিনিয়োগের নজর
২৫ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর গ্রেটার নয়ডায় আয়োজিত হচ্ছে চতুর্থ UP International Trade Show। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের অনুষ্ঠানে ১,০০০-র বেশি ভারতীয় বিক্রেতা, রফতানিকারক ও উৎপাদক এবং ৬০০-র বেশি বিদেশি ক্রেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এই মঞ্চ থেকেই উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন ক্ষেত্রের পরিবর্তনের ছবি তুলে ধরলেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বার্তা—আইনশৃঙ্খলা ও নীতির স্থিরতা বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।







