বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ফের সরব প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে ভার্চুয়াল ভাষণে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর দেশ উন্নতির বদলে আরও গভীর সঙ্কটের দিকে এগিয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল অভিযোগ ছিল আইনশৃঙ্খলা, অর্থনীতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়ে।
শেখ হাসিনার অভিযোগ, দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে, শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং কৃষকরাও প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, বহু মানুষ কাজ হারাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক কর্মীদের আত্মগোপন করতে হচ্ছে।
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শেখ হাসিনার দাবি, দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ আগের মতো নিরাপদ বোধ করছেন না। যদিও বর্তমান বাংলাদেশ সরকার অন্যদিকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার ও নিরাপত্তার কথা জানিয়েছে।
আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, একটি বড় রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ রেখে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় না। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রাজনৈতিক সমানাধিকার, বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হওয়ার আবেদন জানান। একই সঙ্গে আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা তুলে ধরেছেন এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য সামনে এসেছে।







