সংসদের স্থায়ী কমিটিতে ফের বড়সড় রদবদল। রাসায়নিক ও সার বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদ হারাল মমতা তৃণমূল। এতদিন ওই কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন কীর্তি আজাদ। এবার সেই পদে বসানো হল এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এখনও সংসদীয় দলের স্বীকৃতি পায়নি এনসিপিআই। ফলে সরকারি নথিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ দলত্যাগী ২০ সাংসদ এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসেবেই রয়েছেন। সেই অবস্থাতেই কাকলিকে সংসদের গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কয়েক দিন আগেই এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদদের কোনও স্থায়ী কমিটিতে না রাখার আবেদন জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে লোকসভায় তৃণমূলের হাতে আগের মতো অন্তত একটি স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদ রাখারও আবেদন করেছিলেন তিনি।
কিন্তু সেই আবেদন কার্যত গুরুত্ব পেল না। বরং এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের মধ্য থেকেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে রাসায়নিক ও সার বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা হল।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রক সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলির পুনর্গঠন করা হয়েছে। সেই রদবদলের পরই মমতা তৃণমূলের হাতে থাকা একমাত্র স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদটিও হাতছাড়া হল।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাজকর্ম খতিয়ে দেখার দায়িত্ব রয়েছে কমিটির। সার ও রাসায়নিক বিষয়ক কমিটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারত কৃষিপ্রধান দেশ এবং দেশের বহু কৃষক সারের উপর নির্ভরশীল। তাই দেশের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ বলেও জানান কাকলি। তাঁর কথায়, মানুষের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থকেই সামনে রেখে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে অনৈতিক বলে অভিযোগ করেছেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। তাঁর দাবি, এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা আগেই বোঝা গিয়েছিল। ডিলিমিটেশনকে কেন্দ্র করে তাঁদের সন্তুষ্ট রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এইভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া কোনওভাবেই উচিত হয়নি।







