ছোটবেলা থেকেই কাঞ্চন মল্লিককে চেনেন শ্রীময়ী চট্টরাজ। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের পরিচয়ের পর একসময় সেই সম্পর্কই পরিণতি পায় দাম্পত্যে। আজ জীবনের প্রতিটি ওঠাপড়ায় একে অপরের পাশে রয়েছেন তাঁরা। দু’জনের জীবনের ভালো-মন্দ, সাফল্য-সংগ্রাম কিংবা না বলা কথাগুলিও যেন একে অপরের হাতের তালুর মতোই পরিচিত। একাধিক সাক্ষাৎকারে শ্রীময়ী নিজেই জানিয়েছেন, জীবনের কঠিন সময়ে কাঞ্চনের সহযোগিতা ও উৎসাহ তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সম্প্রতি জি বাংলার জনপ্রিয় নন-ফিকশন শো ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চেও নিজেদের জীবনের এমনই এক অজানা অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে আনেন তাঁরা, যা শুনে অবাক হয়ে যান সঞ্চালক দেবও।
সেখানেই শ্রীময়ী জানান, বিয়ের পর পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে তিনি এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। নিজের পড়াশোনার ইচ্ছার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর পরিবারে একসময় একজন ব্যারিস্টার দাদু ছিলেন। তাই ছোট থেকেই আইন নিয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু সেই সময় মেয়েদের একা বাইরে পাঠিয়ে পড়াশোনা করানো কিংবা জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে পরিবারের তরফে ছিল নানা বিধিনিষেধ। বাবার কাছ থেকেও সেই সময় বিশেষ অনুমতি পাননি তিনি।
পরবর্তীতে কাঞ্চনের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু থেকেই শ্রীময়ীর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁকে উৎসাহ দিয়ে এসেছেন কাঞ্চন মল্লিক। শ্রীময়ীর কথায়, কাঞ্চন বারবার বলতেন, পড়াশোনা কোনওভাবেই থামানো যাবে না এবং যেভাবেই হোক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। কাঞ্চনের সেই উৎসাহ ও মানসিক জোরই তাঁকে ফের পড়াশোনার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
শুধু তাই নয়, গর্ভাবস্থার মতো শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যেও কলেজের পরীক্ষায় বসেছিলেন শ্রীময়ী। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সেই এলএলবি পরীক্ষার ফল। সেখানে ৭৫ শতাংশেরও বেশি নম্বর পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন শ্রীময়ী। এবার হাতে এল বহুদিনের সেই স্বপ্নের ডিগ্রি। সার্টিফিকেট হাতে ছবি পোস্ট করে নিজের আনন্দের কথা জানিয়েছেন তিনি। শ্রীময়ী লিখেছেন, “আজ আমার স্বপ্নপূরণ হল তোমাদের সকলের ভালোবাসায়। অবশেষে এলএলবি ডিগ্রি হাতে পেলাম।”
দীর্ঘদিনের ইচ্ছেকে বাস্তবে পরিণত করে শ্রীময়ীর এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি তাঁর অনুরাগীরাও।







