রাজ্য

পুজোয় ভিড় সামলাতে শিয়ালদহে বিশেষ নজরদারি! ২,৯৮৬ ক্যামেরার চোখে বন্দি ৮৭ স্টেশন

দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করবেন? উৎসবের মরসুমে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন। পুজোর ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে স্টেশনে নিরাপত্তা ও ট্রেন চলাচলের পরিস্থিতির উপর নজরদারি—সবকিছুর জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ মেগা কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ ৮৭টি স্টেশনের লাইভ CCTV ফুটেজে নজর রাখবেন রেলকর্তারা। গোটা ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হচ্ছে ২,৯৮৬টি ক্যামেরা।

**কন্ট্রোল রুম থেকেই নজরে থাকবে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলি**

পুজোর সময়ে শিয়ালদহ ডিভিশনের একাধিক স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। সেই ভিড়ের মধ্যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিধাননগর, দমদম, কল্যাণী, নৈহাটি, ব্যারাকপুর, বালিগঞ্জ, ঢাকুরিয়া, নিউ আলিপুর, বারাসত, রানাঘাট ও কৃষ্ণনগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে বাড়তি নজর রাখা হবে।

প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ভিড়, ট্রেনের প্রবেশ ও প্রস্থান এবং স্টেশনের সামগ্রিক পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে কন্ট্রোল রুম থেকে। কোনও জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত পদক্ষেপ করাই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

**২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে থাকবেন আধিকারিকরা**

শুধু ক্যামেরায় নজরদারিই নয়, কন্ট্রোল রুমে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক, অপারেটিং এবং ক্যারেজ ও ওয়াগন বিভাগের আধিকারিকরা পালা করে দায়িত্ব সামলাবেন। যাত্রীদের কোনও অভিযোগ এলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপরেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশনের জন্যও থাকছে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা। পাশাপাশি, কন্ট্রোল রুমের CCTV ফুটেজ রেল বোর্ডের অফিস থেকেও দেখা যাবে বলে জানা গিয়েছে।

**পুজোয় বাড়ছে বিশেষ ট্রেনের সংখ্যাও**

যাত্রীদের ভিড় সামলাতে শুধু নিরাপত্তা নয়, ট্রেন পরিষেবাতেও বাড়তি ব্যবস্থা নিচ্ছে শিয়ালদহ ডিভিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর প্রতিদিন ৫১টি বিশেষ EMU ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ২০টি বেশি।

এ ছাড়াও ১০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে ৮০টি বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেনের ট্রিপ চালানো হবে। পুজোর রাতে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য চলবে ৩৮টি ওভারনাইট স্পেশাল EMU ট্রেনও।

দুপুর ২টো থেকে সমস্ত সাবার্বান MEMU ও EMU ট্রেনকে হাল্ট এবং ফ্ল্যাগ স্টেশনে দাঁড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পুজোর ভিড়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করতেই শিয়ালদহ ডিভিশনের এই বিশেষ উদ্যোগ। ২,৯৮৬টি ক্যামেরার নজরদারি, ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম এবং অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবা—এই তিন ব্যবস্থার মাধ্যমে উৎসবের দিনগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে রেল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.