রাজনীতি

কলকাতা-হাওড়া পুরভোটে ‘বেনোজল’ ঠেকাতে সতর্ক বিজেপি, সুকান্তর মন্তব্যে জল্পনা

আর মাসখানেক পরেই কলকাতা ও হাওড়ায় পুরভোট। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এই দুই পুরনিগম দখল করা বিজেপির কাছে অন্যতম বড় পরীক্ষা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ অবশ্য মনে করছে, খুব একটা বেগ পেতে হবে না গেরুয়া শিবিরকে। তবে সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিজেপি। দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনকে মজবুত করার পাশাপাশি ধাপে ধাপে পুরভোটের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

শনিবার পুরভোটের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েড দলের পরিকল্পনার বেশ কিছুটা আভাস দেন কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে চাইছে দল। প্রার্থীতালিকায় ‘বেনোজল’ যাতে ঢুকে না পড়ে, সে জন্য বিস্তারিত যাচাই-বাছাইয়ের পরেই নাম চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিজেপির পুরনো কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন সুকান্ত। তবে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। পুরনিগম, পুরসভা থেকে পঞ্চায়েত—বিভিন্ন জায়গায় পদত্যাগ ও দলবদলের জেরে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যায়। তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মী পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই নিজেদের ‘ভালো তৃণমূল’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পুরনো কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে, পুরভোটে কি দলবদলুদের প্রার্থী করা হবে? দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করেও কি তাঁরা টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়বেন?

এই পরিস্থিতিতে দলের পুরনো কর্মীদের আশ্বস্ত করতে এগিয়ে এসেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রার্থী তালিকায় কোনও ‘বেনোজল’-কে জায়গা দেওয়া হবে না।

তবে শনিবারের বৈঠকের পর সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যে সেই বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হল না। তিনি বলেন, দলের পুরনো কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কেউ ১০ বছর ধরে দলে থাকুন বা এক বছর, বর্তমানে যাঁরা বিভিন্ন পদে রয়েছেন কিংবা অতীতে সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। পুরনো কর্মীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর থাকবে বলেও জানান তিনি।

সুকান্ত আরও জানান, সাংগঠনিক স্তরের ছোট থেকে বড় সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী বাছাই করা হবে। দলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতও নেওয়া হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের সময় জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তিও বিবেচনায় রাখা হবে। আগামী ২৫ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট ড্রপ বক্সে আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন জমা দিতে পারবেন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নেতাদের কি পুরভোটের প্রার্থী তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ রাখা হবে? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি সুকান্ত। বরং তাঁর তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘‘রাজনীতি অনন্ত সম্ভাবনার ক্ষেত্র।’’

ফলে পুরনো কর্মীদের অগ্রাধিকারের কথা বলা হলেও দলবদলুদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে খারিজ করলেন না বিজেপির কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। আর সেখান থেকেই ‘বেনোজল’ নিয়ে দলের অন্দরের জল্পনা আরও বাড়ল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Adblock Detected

Please Turn Off Your Ad Blocker.