নিজস্ব সংবাদদাতা : মঙ্গলবার সিজিও কমপ্লেক্সে বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেত্রী নুসরাত জাহানকে হাজিরার নির্দেশ দিল ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। নুসরতের সঙ্গে ওই সংস্থার ডিরেক্টর রাকেশ সিংহকেও তলব করা হয়েছে বলে খবর ইডি সূত্রে।
বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদের নামে ২৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়েছিল ইডি-র কাছে। সূত্রের খবর ২০১৪-’১৫ সালে ৪০০-র বেশি প্রবীণ নাগরিক একটি সংস্থায় অর্থ জমা দেন। প্রত্যেককে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা না পেয়েছেন কোনও ফ্ল্যাট, আর না ফেরত পেয়েছেন কোন টাকা। নুসরত ওই সংস্থার ‘অন্যতম ডিরেক্টর’ বলে দাবি করেছিলেন বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা।
শঙ্কুদেবের অভিযোগ, এ বিষয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। এমনকি নুসরতের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, আদালতের শমন পেয়েও হাজিরা দিতে আসেননি সাংসদ তথা অভিনেত্রী। তাই শেষে প্রতারিতদের নিয়ে ইডি দফতরে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে আসেন শঙ্কুদেব। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পরে এ-ও দাবি করেন, ‘প্রতারণার’ টাকা দিয়ে পাম অ্যাভিনিউতে নুসরত ফ্ল্যাট কিনেছেন।
অভিযোগ সামনে আসার পর নুসরতের তরফে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ফ্ল্যাট কিনেছেন। সেই ঋণ সুদ-সহ ফিরিয়েও দিয়েছেন। ওই সংস্থার সঙ্গে তাঁর আর কোনও যোগাযোগ নেই। তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ননও বলে দাবি করেন নুসরত। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে এর বাইরে সাংবাদিকদের আর প্রায় কোনও প্রশ্নেরই জবাব তাঁকে দিতে শোনা যায়নি।
ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার এই মামলায় প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন নুসরত। একটি পার্টিতে অভিনেতা যশ দাশগুপ্তের পাশে দাঁড়িয়ে জোর দিয়েই তিনি দাবি করেছিলেন, ইডি তাঁকে ডাকবে না।কী ভাবে এত নিশ্চিত হয়েছিলেন তিনি?সেই প্রশ্নও উঠছে। তবে অনেকের ধারণা যশ যেহেতু এক বার বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, সেহেতু ভোটে হেরে যাওয়ার পর বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে আর তাঁকে দেখা না গেলেও , কখনও ঘোষণাও করেননি যে, তিনি আর বিজেপিতে নেই। হতেই পারে, বিজেপির সঙ্গে যশের ‘যোগাযোগ’ এখনও অটুট। আর সেই ভিত্তিতেই হয়তো স্ত্রী নুসরতের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর। কিন্তু আদতে দেখা গেল, নুসরতের ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ মিলল না। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করল কেন্দ্রীয় সংস্থা। তিনি নির্দিষ্ট দিনে ইডি দফতরে হাজিরা দেন কি না, এখন সেটাই দেখার।







